গাইঘাটা এনকাউন্টার: বন্দুক ছিনিয়ে গুলি চালানোর অভিযোগ, জলাশয়ে ঝাঁপ পুলিশকর্মীর! গভীর রাতে কী ঘটেছিল?

ঘটনার পুনর্নির্মাণ শেষে ফেরার পথে গুলিচালনার অভিযোগে গাইঘাটায় মৃত্যু হয়েছে প্রহ্লাদ দাসের। পুলিশের সূত্রে উঠে এসেছে বৈদ্যবাড়ির কাছে রাতের ঘটনাক্রম, তবে আনুষ্ঠানিক বিবৃতির অপেক্ষা রয়েছে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে ধৃত প্রহ্লাদ দাসের মৃত্যুকে ঘিরে সামনে এসেছে রাতের ঘটনাক্রম সম্পর্কে পুলিশের একাধিক দাবি। ঘটনার পুনর্নির্মাণ শেষে ফেরার পথে অভিযুক্ত এক পুলিশকর্মীর বন্দুক ছিনিয়ে গুলি চালান বলে অভিযোগ। প্রাণ বাঁচাতে এক পুলিশকর্মী রাস্তার পাশের জলাশয়ে ঝাঁপ দেন বলেও দাবি পুলিশের একটি সূত্রের। এর পর পালটা গুলি চালানো হলে গুলিবিদ্ধ হন প্রহ্লাদ। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

সোমবার গভীর রাতে বৈদ্যবাড়ি এলাকার কাছে এই ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে বাংলাদেশ সীমান্তের দূরত্ব প্রায় চার কিলোমিটার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ওই এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে রাখে পুলিশ। তবে রাতের গুলিচালনা নিয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এখনও পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, সোমবার রাত ১২টার কিছু আগে প্রহ্লাদ দাসকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে গিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। সেখান থেকে ফেরার সময় বৈদ্যবাড়ি এলাকার কাছে গাড়ি থামানোর অনুরোধ করেন অভিযুক্ত। প্রস্রাব করার কথা বলে গাড়ি থামাতে বলার পরেই তিনি এক পুলিশকর্মীর বন্দুক ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগ।

পুলিশের ওই সূত্রের বক্তব্য, বন্দুক হাতে পাওয়ার পর পরপর তিন রাউন্ড গুলি চালান প্রহ্লাদ। তার মধ্যে একটি গুলি পুলিশের গাড়িতে লাগে বলে দাবি। আচমকা এই পরিস্থিতিতে পুলিশকর্মীরা নিজেদের বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তাঁদের মধ্যে এক জন জখম হন এবং অন্য এক পুলিশকর্মী রাস্তার পাশের জলাশয়ে ঝাঁপ দেন বলে সূত্রের দাবি।

এর পর আত্মরক্ষার্থে পুলিশ চার রাউন্ড গুলি চালায় বলে জানা গিয়েছে। তার মধ্যে একটি গুলি প্রহ্লাদের গায়ে লাগে বলে পুলিশের সূত্রের দাবি। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত পুলিশকর্মীরও হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

তবে গোটা ঘটনাক্রমের স্বাধীন যাচাই, গুলিচালনার পরিস্থিতি এবং পুলিশের ব্যবহৃত অস্ত্র সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি। তাই পুলিশের সূত্রে পাওয়া বিবরণকে চূড়ান্ত ও প্রতিষ্ঠিত ঘটনা হিসেবে ধরে নেওয়া যাচ্ছে না।

মঙ্গলবার সকালে বৈদ্যবাড়িতে ঘটনাস্থল ঘিরে ব্যারিকেড তৈরি করতে দেখা যায় পুলিশকে। রাস্তার উপর একটি জুতো পড়ে থাকতেও দেখা যায়। তবে সেটি কার, তা স্পষ্ট নয়।

এদিকে মৃত অভিযুক্তের বাড়ি এবং কিশোরীর বাড়ির দিকে বহিরাগতদের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে পুলিশ।

পুলিশি গুলিচালনায় প্রহ্লাদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। কিশোরীর পরিবারও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

মৃত কিশোরীর বাবা বলেন, মেয়েকে আর ফিরে পাবেন না। তবে অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করেছিলেন এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিলেন বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। সেই পরিস্থিতিতে পুলিশের পালটা গুলিতে অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছে বলে তাঁর বক্তব্য।

এলাকার কয়েক জন বাসিন্দাও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং পুলিশের উপর হামলার খবরের প্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তবে স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ঘটনার সম্পূর্ণ সত্যতা নির্ধারণ করে না। গুলিচালনার পরিস্থিতি সম্পর্কে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রামাণ্য তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শনিবার গাইঘাটা থানা এলাকার ১৭ বছর বয়সি ওই কিশোরী বাড়ির কাছে একটি জলসা দেখতে গিয়েছিল। অনুষ্ঠানে তার বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সদস্যেরাও উপস্থিত ছিলেন। জলসা গভীর রাত পর্যন্ত চলে।

পরিবারের দাবি, রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ একটি ফোন আসার পর অনুষ্ঠান ছেড়ে বেরিয়ে যায় কিশোরী। তার পর আর বাড়ি ফেরেনি। রাতে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না মেলায় পরিবারের উদ্বেগ বাড়ে। রবিবার সকালে তার বিবস্ত্র ও ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, কিশোরীকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে রবিবারই পরিবারের আত্মীয় প্রহ্লাদ দাসকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠনের কথাও আগের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল।

তবে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণে তদন্তের ফল, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং অন্যান্য প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ।

গাইঘাটার ঘটনায় পুলিশের একটি সূত্র থেকে রাতের গুলিচালনার যে বিবরণ সামনে এসেছে, তা নিয়ে একাধিক প্রশ্নের উত্তর এখনও বাকি। বন্দুক ছিনিয়ে নেওয়া, গুলি চালানো, পুলিশকর্মীর আহত হওয়া এবং আত্মরক্ষার্থে পালটা গুলিচালনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া গেলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।

অভিযুক্তের মৃত্যুর পাশাপাশি কিশোরীর মৃত্যুর তদন্তও সমান গুরুত্বপূর্ণ। দুটি ঘটনারই প্রমাণভিত্তিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের ফল সামনে আসা প্রয়োজন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর