দীপাবলিতে কেন জ্বালানো হয় যমদীপ? ৬ নভেম্বর কখন শুভ সময়, জেনে নিন নিয়ম

কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে যমদীপ জ্বালানোর প্রচলন রয়েছে। ২০২৬ সালে ৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় এই রীতি পালন করা হবে। কেন জ্বালানো হয় যমদীপ, কী ভাবে প্রদীপ সাজাবেন এবং কোন নিয়মগুলি মানার কথা বলা হয়, জেনে নিন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দীপাবলি মানেই আলোর উৎসব। বাড়ি সাজানো, প্রদীপ জ্বালানো, লক্ষ্মীপুজো—সব মিলিয়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। পাঁচ দিন ধরে চলা এই উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একাধিক ধর্মীয় রীতি ও লোকাচার। তারই অন্যতম হল যমদীপ জ্বালানো। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই প্রদীপ জ্বালিয়ে যমরাজের কাছে পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘায়ু, সুস্থতা ও মঙ্গল কামনা করা হয়।

অনেক পরিবারে দীপাবলির সময়ে পূর্বপুরুষদের স্মরণে প্রদীপ জ্বালানোর রীতিও রয়েছে। তবে যমদীপের প্রথা বিশেষভাবে কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথির সঙ্গে যুক্ত। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে প্রদীপ জ্বালালে অকালমৃত্যুর আশঙ্কা থেকে পরিবারের সদস্যদের রক্ষা করার জন্য যমরাজের আশীর্বাদ প্রার্থনা করা হয়।

২০২৬ সালে যমদীপ কবে জ্বালানো হবে, কখন রয়েছে শুভ সময় এবং কী ভাবে এই রীতি পালন করা হয়—জেনে নিন বিস্তারিত।

যমদীপ ২০২৬: কবে এবং কখন জ্বালাবেন?

প্রচলিত ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে যমদীপ জ্বালানো হয়। স্কন্দ পুরাণের উল্লেখ ধরে এই প্রথার সঙ্গে ত্রয়োদশী তিথির সম্পর্ক ব্যাখ্যা করা হয়।

২০২৬ সালের তিথি ও শুভ সময়ের বিবরণ অনুযায়ী—

যমদীপ জ্বালানোর দিন

শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

শুভ সময়

সন্ধ্যা ৫টা ৩৩ মিনিট থেকে ৬টা ৫১ মিনিট

ত্রয়োদশী তিথি

৬ নভেম্বর সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে শুরু, ৭ নভেম্বর সকাল ১০টা ৪৭ মিনিটে শেষ

প্রচলিত নিয়মে প্রদোষকালকে যমদীপ জ্বালানোর জন্য বিশেষ শুভ বলে মনে করা হয়। সেই বিশ্বাস অনুসারেই ৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় এই রীতি পালন করার কথা বলা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট সময় স্থানীয় পঞ্জিকা ও স্থানভেদে যাচাই করে নেওয়া ভালো।

কী ভাবে জ্বালাবেন যমদীপ?

যমদীপ জ্বালানোর ক্ষেত্রে কয়েকটি রীতি প্রচলিত রয়েছে। সেগুলি মেনে এই প্রদীপ জ্বালান বহু পরিবার।

প্রথমত, সাধারণত মাটির তৈরি চারমুখী প্রদীপ ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ, প্রদীপটিতে চারটি সলতে বা বাতি থাকে। প্রদীপে সর্ষের তেল অথবা তিলের তেল ব্যবহার করার রীতি রয়েছে।

এর পর বাড়ির প্রধান প্রবেশদ্বারের বাইরে প্রদীপটি রাখা হয়। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, প্রদীপের মুখ দক্ষিণ দিকে করে রাখা হয়। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসে দক্ষিণ দিককে যমরাজের দিক বলে মনে করা হয়। তাই দক্ষিণ দিকে প্রদীপ জ্বালিয়ে যমরাজের কাছে পরিবারের মঙ্গল ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।

কিছু প্রথায় প্রদীপ রাখার পর পিছন ফিরে না তাকিয়ে ঘরে ফিরে আসার কথাও বলা হয়। তবে এই নিয়মগুলি ধর্মীয় আচার ও পারিবারিক ঐতিহ্যের অংশ; সব অঞ্চলে বা পরিবারে রীতির ধরন এক নয়।

যমদীপ জ্বালানোর পিছনে কী ধর্মীয় বিশ্বাস রয়েছে?

যমদীপের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে যমরাজকে স্মরণ করা এবং পরিবারের সদস্যদের কল্যাণ কামনার বিশ্বাস। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, এই প্রদীপ জ্বালিয়ে অকালমৃত্যুর ভয় থেকে মুক্তি এবং সুস্থ, দীর্ঘ জীবন প্রার্থনা করা হয়।

দীপাবলির আলোর উৎসবের সঙ্গে এই রীতির যোগও তাৎপর্যপূর্ণ। অন্ধকার দূর করে আলো জ্বালানোর প্রতীকী ভাবনার পাশাপাশি, যমদীপকে জীবনের সুরক্ষা ও মঙ্গলের প্রার্থনা হিসেবেও দেখা হয়।

তবে যমদীপ জ্বালালে অকালমৃত্যু আটকানো যায়—এমন কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এটি মূলত ধর্মীয় বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও লোকাচারের সঙ্গে যুক্ত একটি প্রথা।

দীপাবলির সময়ে যমদীপ জ্বালাতে চাইলে স্থানীয় পঞ্জিকা দেখে তিথি ও সময় মিলিয়ে নিন। পাশাপাশি প্রদীপ জ্বালানোর সময় আগুনের নিরাপত্তার দিকেও নজর রাখা জরুরি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর