‘বয়স হয়েছে, আর না দাঁড়ানোই ভালো’, মমতাকে বিশ্রামের পরামর্শ শুভেন্দুর

হাসিরানি রথ ও শাখারভ সরকারের শপথগ্রহণের পর বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে নন্দীগ্রাম আসন ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই সময়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে মন্তব্য করেন তিনি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নাম না করে ফের ভোটে না দাঁড়ানোর পরামর্শ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে জয়ী দুই বিধায়ক হাসিরানি রথ এবং শাখারভ সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের পর বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি। নন্দীগ্রাম আসন ছেড়ে ভবানীপুর ধরে রাখার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়েই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করেন শুভেন্দু।

তাঁর বক্তব্য, নন্দীগ্রাম ছেড়ে না দিলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফের ওই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ তৈরি হতে পারত। সেই প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, “এই বয়সে আর না দাঁড়ানোয় ভালো। বয়স প্রায় ৭৫। বিশ্রাম নেওয়ার কথা এখন।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। নিয়ম অনুযায়ী, দুই আসনে জয়ী হলেও একজন প্রার্থীকে একটি আসন ছেড়ে দিতে হয়। শুভেন্দু ভবানীপুর ধরে রেখে নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেন। তার জেরেই ওই কেন্দ্রে উপনির্বাচন হয়।

বুধবার বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু দাবি করেন, নন্দীগ্রামের মানুষের তরফে ভবানীপুর ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তিনি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেওয়ার ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফের ওই কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারত।

এই ব্যাখ্যা দিতে গিয়েই মমতাকে ভোটে না দাঁড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি। তবে এটি শুভেন্দুর রাজনৈতিক বক্তব্য; মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন কি না, তা এই প্রতিবেদন তৈরির সময় নিশ্চিত নয়।

বুধবার বিধানসভায় শপথ নেন নন্দীগ্রামের নবনির্বাচিত বিধায়ক হাসিরানি রথ এবং রেজিনগরের বিধায়ক শাখারভ সরকার। স্পিকার রথীন্দ্র বসু তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

নন্দীগ্রামে হাসিরানি রথের জয় বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি শুভেন্দুর প্রয়াত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা। ওই আসনটি শুভেন্দু ছেড়ে দেওয়ার পর উপনির্বাচনে বিজেপি তাঁকে প্রার্থী করে। অন্য দিকে, রেজিনগরেও উপনির্বাচনে জয়ী হন বিজেপির শাখারভ সরকার। দুই কেন্দ্রেই ৬ অক্টোবর ভোটগ্রহণ হয় এবং ৯ অক্টোবর ফল ঘোষণা করা হয়েছিল।

শপথগ্রহণের পর বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু নন্দীগ্রামের নির্বাচনী পরিস্থিতি এবং আসন ছাড়ার সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ তোলেন। সেই বক্তব্যের মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে তাঁর মন্তব্য সামনে আসে।

শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বক্তব্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বয়স প্রায় ৭৫ বলে উল্লেখ করেন। তবে সরকারি জীবনী অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মতারিখ ৫ জানুয়ারি ১৯৫৫। সেই হিসাব ধরলে ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে তাঁর বয়স ৭১ বছর।

ফলে শুভেন্দুর বক্তব্যে উল্লেখ করা বয়সের সঙ্গে সরকারি নথিতে থাকা জন্মতারিখের হিসাব মেলে না। বয়স নিয়ে মন্তব্যটি তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্যের অংশ হিসেবেই দেখা উচিত।

শুভেন্দুর এই মন্তব্যের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নন্দীগ্রাম আসন ছাড়ার সিদ্ধান্ত এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্ভাব্য নির্বাচনী ভূমিকা নিয়ে তাঁর রাজনৈতিক কটাক্ষ। বিধানসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে এই মন্তব্যের মাধ্যমে রাজ্যের দুই নেতার রাজনৈতিক সংঘাত আরও একবার প্রকাশ্যে এল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর