‘আরশোলা’, ‘ছারপোকা’ ও ‘দিমাগি নকশাল’ ঠেকাতে স্কুলে ‘রাষ্ট্রবাদ’ শেখানোর প্রস্তাব শুভেন্দুর! কী বললেন?

স্কুলে রাষ্ট্রবাদী মানসিকতা গড়ে তুলতে বিতর্ক, কুইজ ও তাৎক্ষণিক বক্তৃতার প্রস্তাব দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। NCC, NSS, ব্রতচারী, পাশ-ফেল প্রথা ও মোবাইল ব্যবহার নিয়েও বক্তব্য রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

স্কুলপড়ুয়াদের মধ্যে রাষ্ট্রবাদী মানসিকতা গড়ে তুলতে বছরে অন্তত তিন দিন বিতর্ক, কুইজ ও তাৎক্ষণিক বক্তৃতার মতো কর্মসূচি আয়োজনের প্রস্তাব দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করা, পাশ-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনা এবং এনসিসি (NCC), এনএসএস (NSS) ও ব্রতচারীর মতো কার্যক্রম চালুর পক্ষেও মত প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধীদের আক্রমণ করতে গিয়ে ‘আরশোলা’, ‘ছারপোকা’ ও ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দ ব্যবহার করেন মুখ্যমন্ত্রী।

চোরবাগানে মৃত কল্পনা জানার বাড়িতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছিলেন শুভেন্দু। সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় কৃষি, শিল্প, শিক্ষা এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন তিনি। স্কুলে পড়ুয়াদের রাষ্ট্রবাদী করে তুলতে সাংস্কৃতিক কর্মসূচির গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।

শুভেন্দু বলেন, প্রত্যেক বছর অন্তত তিন দিন ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিতর্ক, কুইজ প্রতিযোগিতা এবং তাৎক্ষণিক বক্তৃতার আয়োজন করা উচিত। এই ধরনের কর্মসূচি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এর মাধ্যমে পড়ুয়াদের মধ্যে রাষ্ট্রবাদী ভাবনা গড়ে তোলা সম্ভব।

রাজনৈতিক বক্তব্যে বিরোধীদের একাংশকে ‘আরশোলা’, ‘ছারপোকা’, ‘দিমাগি নকশাল’ এবং ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ স্লোগানের প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। এই গোষ্ঠীগুলিকে দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করেন শুভেন্দু।

শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্কুলে মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পক্ষে মত দেন তিনি। পাশাপাশি পাশ-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন। তবে এই দুই প্রস্তাব কার্যকর করার বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা বা সরকারি নির্দেশিকার কথা জানাননি মুখ্যমন্ত্রী।

স্কুলে জাতীয় ক্যাডেট কোর (NCC), ন্যাশনাল সার্ভিস স্কিম (NSS) এবং ব্রতচারীর মতো কর্মসূচি ফিরিয়ে আনার কথাও বলেন শুভেন্দু। তাঁর মতে, ভারতবর্ষের ইতিহাস ও পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস পড়ুয়াদের মধ্যে আরও বেশি করে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।

বাম ও তৃণমূলকে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, আগের সরকারগুলির আমলে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্ব কমেছে। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার রাজ্যে এনসিসি তুলে দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে ‘মা’-এর পরিবর্তে ‘আম্মা’ এবং ‘ফুফু’ শব্দের ব্যবহার নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে এনসিসি সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি বা শিক্ষা দপ্তরের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। স্কুলে রাষ্ট্রবাদী শিক্ষা, মোবাইল ফোনের ব্যবহার, পাশ-ফেল প্রথা এবং সহশিক্ষামূলক কার্যক্রম নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর এ বিষয়ে সরকারের তরফে কোনও নতুন নির্দেশিকা প্রকাশিত হয়েছে কি না, তা আলাদা করে যাচাই করা প্রয়োজন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর