উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল এলাকায়। রবিবার সকালে প্রতিবেশীর বাড়ির বাথরুমের সামনে দেহটি পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। কিশোরীকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় এক আত্মীয়কে আটক করেছে পুলিশ। দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠিয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গাইঘাটা থানা এলাকার বাসিন্দা ওই কিশোরী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে একাদশ শ্রেণিতে পড়ত। শনিবার রাতে পরিবারের সঙ্গে গাইঘাটা বাজার এলাকায় একটি বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানে গিয়েছিল সে। রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ একটি ফোন আসার পর অনুষ্ঠানস্থল থেকে বেরিয়ে যায় কিশোরী। তারপর থেকে তার আর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে পরিবারের দাবি।
রবিবার সকালে প্রতিবেশীর বাড়ির বাথরুমের সামনে তার দেহ উদ্ধার হয়। দেহে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে জানা গিয়েছে। ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ উঠলেও, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং পুলিশের তদন্তের আগে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
মৃতার এক মামি জানিয়েছেন, শনিবার রাতে রাস্তায় কিশোরীর সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিল। তখন তাঁকে বাড়ি ফেরার কথা বলেছিলেন তিনি। কিন্তু কিশোরী জানিয়েছিল, বান্ধবীর সঙ্গে পরে বাড়ি ফিরবে। এরপর তিনি বাড়ি ফিরে ঘুমিয়ে পড়েন। রবিবার সকালে পাশের বাড়ির এক ব্যক্তি এসে কিশোরীর দেহ উদ্ধারের খবর দেন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় বিজেপি নেত্রী বিপ্লবী দাসের দাবি, শনিবার রাতে বিজয়া দশমীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল কিশোরী। রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ ফোন পাওয়ার পর সে সেখান থেকে চলে যায়। তারপর তার আর খোঁজ মেলেনি। সকালে দেহ উদ্ধারের পর পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে পুলিশের তরফে এই বিষয়ে বিস্তারিত বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
ঘটনায় এক আত্মীয়কে আটক করার কথা জানা গেলেও, তাঁর বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগের সত্যতা, কিশোরীর মৃত্যুর পরিস্থিতি এবং শেষবার ফোনে কার সঙ্গে কথা হয়েছিল—সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তের পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।



