প্রথম রাতেই খাওয়াদাওয়ায় অনীহা, ৪৫ মহিলা বন্দির সঙ্গে শ্রদ্ধা দুবে! লখনউয়ের জেলে কেমন কাটছে দিন?

শিবা শর্মার মৃত্যু মামলায় গ্রেফতারির পর লখনউয়ের গোসাইগঞ্জ জেলে শ্রদ্ধা দুবে ও তাঁর বোন রশ্মি। জেল সূত্রে খাবারে অনীহা ও কম কথাবার্তার খবর, আদালতে খারিজ জামিনের আবেদন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

লখনউয়ের ক্যাফে-মালিক শিবা শর্মার মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতারির পর এখন উত্তরপ্রদেশের গোসাইগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দি মডেল শ্রদ্ধা দুবে। জেল সূত্রের খবর, তাঁর সঙ্গে রয়েছেন বোন রশ্মিও। ৪৫ জন মহিলা বন্দির সঙ্গে রাখা হয়েছে দুই বোনকে। জেলে প্রথম রাতেই খাবার খেতে অনীহা, অন্য বন্দিদের সঙ্গে কথাবার্তা কম বলার মতো বিষয় উঠে এসেছে। এদিকে, শিবা শর্মার মৃত্যুর মামলায় শ্রদ্ধা ও তাঁর দুই সঙ্গীর জামিনের আবেদনও খারিজ হয়েছে বলে সাম্প্রতিক রিপোর্টে জানা গিয়েছে।

গত ২০ অক্টোবর মহারাষ্ট্রের নাগপুর থেকে শ্রদ্ধা, তাঁর বোন রশ্মি দুবে এবং গাড়িচালককে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রায় ১১ দিন ধরে তাঁদের খোঁজ চলছিল। পরে লখনউয়ে ফিরিয়ে এনে আদালতে পেশ করা হলে তিন জনকেই বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার তাঁদের লখনউয়ের গোসাইগঞ্জ জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

জেল সূত্রের খবর অনুযায়ী, প্রথমে নতুন বন্দিদের জন্য নির্ধারিত নিভৃতবাসে রাখা হয়েছিল দুই বোনকে। সেই পর্ব শেষ হওয়ার পর তাঁদের মহিলা বন্দিদের সাধারণ ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে অন্য ৪৫ জন মহিলা বন্দির সঙ্গে রয়েছেন শ্রদ্ধা ও রশ্মি। তাঁদের নিরাপত্তার দিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে বলে জেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য।

জেলে প্রথম রাতের অভিজ্ঞতা খুব একটা স্বস্তির ছিল না বলেই খবর। রাতের খাবারে রুটি, ডাল এবং আলু-সয়াবিন ও মেথি শাকের তরকারি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শ্রদ্ধা সেই খাবার খেতে চাননি বলে জেল সূত্রের দাবি। রাতেও দেরি করে শুতে যান তিনি। ঘুম ঠিকমতো হয়নি বলেও জানা গিয়েছে।

কারাগারের নিয়ম মেনে ভোর ৬টায় উঠে পড়তে হয় বন্দিদের। বিলাসবহুল জীবনযাপনে অভ্যস্ত বলে যাঁর পরিচিতি, তাঁর কাছে জেলের নির্দিষ্ট সময়সূচি এবং সাধারণ খাবারের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া কতটা কঠিন হচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে জেলে তাঁর শারীরিক অবস্থা বা মানসিক পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা চিকিৎসা-তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

জেল সূত্রের আরও দাবি, আসার পর থেকে দুই বোন অন্য বন্দিদের সঙ্গে খুব বেশি কথা বলছেন না। বেশির ভাগ সময় চুপচাপ থাকছেন। নিজেদের মধ্যে অবশ্য মাঝেমধ্যে কথা বলছেন তাঁরা। জেলর ঋত্বিক প্রিয়দর্শীর বক্তব্য অনুযায়ী, শ্রদ্ধা ও রশ্মির উপর নজরদারি রাখা হয়েছে এবং তাঁদের নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়েছে।

শিবা শর্মার মৃত্যুর তদন্তে এখন পুলিশের নজর শুধু ঘটনার রাতের পরিস্থিতির উপর নয়, গ্রেফতারির আগে অভিযুক্তদের গতিবিধি এবং তাঁদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগের দিকেও। পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে, শ্রদ্ধা ও তাঁর সঙ্গীরা বিভিন্ন জায়গায় ছিলেন। তাঁদের পালিয়ে থাকতে সাহায্য করার অভিযোগে শ্রদ্ধার প্রেমিক আমির শেখের নামও সামনে এসেছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অন্য কারা সাহায্য করেছিলেন, তা জানার চেষ্টা চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ৯ অক্টোবর লখনউয়ের হজরতগঞ্জ এলাকার একটি আবাসনের চতুর্থ তলা থেকে পড়ে মৃত্যু হয় ক্যাফে-মালিক শিবা শর্মার। ওই আবাসনেই শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁর লিভ-ইন সম্পর্ক ছিল বলে জানা গিয়েছে। শিবার পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে মারধর ও নির্যাতনের পর ফেলে দেওয়া হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে খুনের মামলা দায়ের হয়।

অন্যদিকে, শ্রদ্ধা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, শিবা আত্মহত্যা করেছিলেন। অর্থাৎ, মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে দুই পক্ষের বক্তব্য সম্পূর্ণ আলাদা। কীভাবে শিবার মৃত্যু হয়েছিল, তাতে কারও অপরাধমূলক ভূমিকা ছিল কি না—সেই প্রশ্নের উত্তর তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে।

এদিকে, ২৪ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, শিবা শর্মার মৃত্যুর মামলায় শ্রদ্ধা দুবে, তাঁর বোন রশ্মি এবং গাড়িচালকের জামিনের আবেদন আদালত খারিজ করেছে। ফলে আপাতত তাঁদের জেলেই থাকতে হচ্ছে। মামলার তদন্ত এখনও চলছে; অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা বিচারপ্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর