র‍্যাপিডো চালক ও আতর বিক্রেতার কাজের আড়ালে জঙ্গি যোগ? মুম্বইয়ে গ্রেপ্তার যুবক

মাহিম মেট্রো স্টেশনের কাছে মহারাষ্ট্র ATS-এর অভিযানে গ্রেপ্তার এক যুবক। জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে কথিত যোগাযোগ, টেলিগ্রাম গ্রুপে অডিয়ো ছড়ানো এবং পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মুম্বইয়ের মাহিম মেট্রো স্টেশনের কাছে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে মহারাষ্ট্র পুলিশের অ্যান্টি টেররিস্ট স্কোয়াড (ATS)। ধৃতের নাম মহম্মদ হাসান আবু সারমাদ আখতার। বয়স ৩৩ বছর। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জৈশ-ই-মহম্মদের (JeM) সঙ্গে কথিত যোগাযোগ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় উস্কানিমূলক প্রচার চালানোর অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর।

২৪ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ATS-এর কালাচৌকি ইউনিট গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মাহিম মেট্রো স্টেশনের কাছে অভিযান চালায়। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতের মোবাইল ফোনে জৈশ-ই-মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহারের বক্তৃতার অডিয়ো ক্লিপ এবং আপত্তিকর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের তথ্য মিলেছে। তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও বিচারাধীন।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মহম্মদ হাসান আবু সারমাদ আখতার অ্যাপভিত্তিক বাইক পরিষেবা র‍্যাপিডোর চালক হিসেবে কাজ করতেন। পাশাপাশি পারফিউম বিক্রির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি।

তদন্তকারীদের অভিযোগ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে উগ্রপন্থী মতাদর্শ প্রচার এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন ধৃত। তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ও মোবাইল ফোনের তথ্য খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

তবে পেশাগত পরিচয়কে অপরাধমূলক কার্যকলাপের প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করবে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া।

ATS-এর দাবি, ধৃত যুবক একটি টেলিগ্রাম গ্রুপ পরিচালনা করতেন। ওই গ্রুপে ২০২৬ সালের ১ জুন জৈশ-ই-মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহারের বক্তৃতার অডিয়ো আপলোড করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। তদন্তকারীরা আরও দাবি করেছেন, ‘ইবনে-ই-কাসিম’ (IBN-e-Qasim) নামে একটি পাকিস্তান-সমর্থিত কট্টরপন্থী টেলিগ্রাম চ্যানেলের সঙ্গেও ধৃতের যোগাযোগ ছিল।

এই অনলাইন কার্যকলাপের মাধ্যমে তিনি কতটা সক্রিয় ছিলেন, অন্য কারও সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন কি না এবং কোনও বৃহত্তর নেটওয়ার্কের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে ATS।

প্রাথমিক তদন্তে ধৃতের সঙ্গে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার অপারেটিভদের যোগাযোগ ছিল কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতের সোশ্যাল মিডিয়া কার্যকলাপ এবং ডিজিটাল যোগাযোগের তথ্য থেকে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তবে পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের অভিযোগ এখনও তদন্তের বিষয়। এই পর্যায়ে সেটিকে প্রমাণিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা যায় না।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মুম্বই সফর সংক্রান্ত একটি নিরাপত্তা-সংক্রান্ত খবরের নীচে ধৃতের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে করা মন্তব্যও তদন্তকারীদের নজরে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। ওই মন্তব্যের প্রকৃতি এবং তার প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা ছড়ানো এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নিত করার অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৯৬(১) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তকারীরা ধৃতের মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য পরীক্ষা করছেন।

এই ঘটনায় অন্য কেউ যুক্ত রয়েছেন কি না, অনলাইনে কোনও সংগঠিত নেটওয়ার্ক কাজ করছিল কি না এবং ধৃতের সঙ্গে সন্দেহভাজন যোগাযোগের প্রকৃতি কী—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে ATS। ডিজিটাল তথ্যের ফরেনসিক পরীক্ষার ফল তদন্তের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

মুম্বইয়ে এই গ্রেপ্তারের পর তদন্তের মূল লক্ষ্য এখন ধৃতের অনলাইন কার্যকলাপ, কথিত জঙ্গি-যোগাযোগ এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের চিহ্নিত করা। তবে তদন্তের ফল এবং আদালতে প্রমাণ পেশ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলিকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর