স্বাস্থ্য বিমায় ১০% কো-পেমেন্টের প্রস্তাব, ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দিতে হতে পারে গ্রাহককে!

খুচরো স্বাস্থ্য বিমায় ১০ শতাংশ কো-পেমেন্ট চালুর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছে জেনারেল ইনসিওরেন্স কাউন্সিল। কার্যকর হলে প্রতি ক্লেমে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত গ্রাহককে দিতে হতে পারে, তবে সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত নয়।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বড় অঙ্কের স্বাস্থ্য বিমা থাকলেও হাসপাতালে চিকিৎসার সময় পুরো খরচ বিমা সংস্থার কাছ থেকে নাও মিলতে পারে। খুচরো স্বাস্থ্য বিমার ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক ১০ শতাংশ কো-পেমেন্ট বা যৌথ খরচের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছে জেনারেল ইনসিওরেন্স কাউন্সিল (General Insurance Council)। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে চিকিৎসার অনুমোদিত খরচের একটি অংশ রোগীর পরিবারকে দিতে হতে পারে। প্রতি ক্লেমে সেই অংশের সর্বোচ্চ সীমা ৫ লক্ষ টাকা রাখার প্রস্তাবও রয়েছে। তবে নিয়মটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

স্বাস্থ্য বিমায় কো-পেমেন্ট চালুর উদ্দেশ্য হিসেবে চিকিৎসার খরচ ও বিমা সংস্থাগুলির ক্লেমের চাপ সামলানোর বিষয়টি উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমা সংস্থাগুলির আলোচনায় খুচরো স্বাস্থ্য বিমার হাসপাতালে ভর্তি-সংক্রান্ত দাবিতে ১০ শতাংশ কো-পেমেন্টের প্রস্তাব উঠেছে।

এই ব্যবস্থায় বিমার আওতায় অনুমোদিত চিকিৎসার খরচের ৯০ শতাংশ বিমা সংস্থা বহন করবে এবং বাকি ১০ শতাংশ দিতে হবে গ্রাহককে। তবে কোন কোন পলিসিতে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে, কী কী খরচের উপর কো-পেমেন্ট হিসাব করা হবে এবং চূড়ান্ত শর্ত কী হবে, তা এখনও নির্ধারিত নয়।

ধরা যাক, কোনও রোগীর হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসার জন্য বিমার আওতায় অনুমোদিত খরচ ৫ লক্ষ টাকা। ১০ শতাংশ কো-পেমেন্ট চালু হলে রোগীর পরিবারকে দিতে হতে পারে ৫০ হাজার টাকা। বাকি ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বিমা সংস্থা বহন করবে, যদি পলিসির অন্যান্য শর্ত পূরণ হয়।

আবার অনুমোদিত ক্লেমের অঙ্ক ৬০ লক্ষ টাকা হলে ১০ শতাংশের হিসাবে রোগীর অংশ দাঁড়ায় ৬ লক্ষ টাকা। প্রস্তাবিত সর্বোচ্চ সীমা ৫ লক্ষ টাকা কার্যকর হলে ওই ক্লেমে কো-পেমেন্টের অঙ্ক ৫ লক্ষ টাকায় আটকে যেতে পারে। তবে বিমার আওতার বাইরে থাকা খরচ বা পলিসির অন্যান্য সীমাবদ্ধতার কারণে গ্রাহকের মোট নিজস্ব খরচ আরও বাড়তে পারে।

স্বাস্থ্য বিমার ক্ষেত্রে কো-পেমেন্ট নতুন ধারণা নয়। বর্তমানে কিছু বিমা পলিসিতে নির্দিষ্ট শতাংশের খরচ গ্রাহককে বহন করতে হয়। পলিসির ধরন, গ্রাহকের বয়স এবং অন্যান্য শর্ত অনুযায়ী এই নিয়মের প্রয়োগ ভিন্ন হতে পারে। নতুন প্রস্তাবের তাৎপর্য হল, এটি কার্যকর হলে আরও বেশি খুচরো স্বাস্থ্য বিমার গ্রাহককে বাধ্যতামূলকভাবে চিকিৎসার খরচের একটি অংশ দিতে হতে পারে।

প্রস্তাবের সঙ্গে বিমার প্রিমিয়াম কমানোর সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে। বিমা সংস্থাগুলির যুক্তি, ক্লেমের খরচের একটি অংশ গ্রাহক বহন করলে সংস্থার ব্যয়ের চাপ কমতে পারে। সেই সুবিধা প্রিমিয়ামে প্রতিফলিত হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। তবে প্রিমিয়াম কতটা কমবে, আদৌ কমবে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও নিশ্চিত ঘোষণা নেই।

প্রস্তাবটি কার্যকর করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিমা নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (Insurance Regulatory and Development Authority of India বা IRDAI)-এর অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে। ৫ অক্টোবর প্রকাশিত বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে শিল্পমহলের একাংশের বক্তব্য, সব খুচরো স্বাস্থ্য বিমায় বাধ্যতামূলক কো-পেমেন্ট চালুর প্রস্তাব নিয়ন্ত্রকের অনুমোদন নাও পেতে পারে। ফলে ১০ শতাংশ কো-পেমেন্টকে ইতিমধ্যেই চালু হওয়া নিয়ম হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

এই প্রস্তাবের সঙ্গে হাসপাতালের তালিকাভুক্তি এবং বিমা সংস্থা ও হাসপাতালের মধ্যে বিল সংক্রান্ত বিরোধ মেটানোর ব্যবস্থার মতো বিষয়ও আলোচনায় এসেছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে এসব ক্ষেত্রেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা কার্যকর নির্দেশিকা প্রকাশিত হয়েছে বলে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্বাস্থ্য বিমার গ্রাহকদের জন্য আপাতত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, নিজের পলিসিতে কো-পেমেন্ট, ডিডাক্টিবল, নন-পেয়েবল খরচ এবং চিকিৎসার সীমা কী রয়েছে, তা দেখে নেওয়া। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে কী পরিবর্তন হবে, তা নির্ভর করবে নিয়ন্ত্রকের সিদ্ধান্ত এবং চূড়ান্ত নীতির শর্তের উপর।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর