হলদিয়া পুরসভা নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তমলুকে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিরোধীদের কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, হলদিয়া পুরভোটে বিরোধীদের খাতা খুলতে দেওয়া হবে না। পুরসভার ৩০টি আসনেই বিজেপির জয়ের লক্ষ্যে কর্মীদের ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
পুরভোটের প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, হলদিয়া পুরসভায় নির্বাচন রয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দলের কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন তিনি। গোটা জেলার কর্মীদের নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
হলদিয়া পুরসভায় মোট ৩০টি আসন রয়েছে। সেই আসনগুলির প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “শূন্য করে দিতে হবে ৩০টি আসনে।” বিরোধীদের উদ্দেশে কটাক্ষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও আক্রমণ করেন তিনি।
হলদি নদীর ওপারে নন্দীগ্রামে বিজেপির নির্বাচনী সাফল্যের প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। হলদি নদীর এ পারে হলদিয়া পুরসভাতেও একই ধরনের ফল হবে কি না, সংবাদমাধ্যমের এমন প্রশ্নের জবাবে শুভেন্দু বলেন, “হলদিয়া পুরভোটে বউনি করতে দেব না… লিখে রাখুন আমার নাম করে, জনগণ আমার সঙ্গে আছে।”
অর্থাৎ, বিরোধীদের কোনও আসন জিততে না দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই নির্বাচনী লড়াইয়ে নামতে চাইছে বিজেপি—মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে সেই বার্তাই উঠে এসেছে।
গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ৪৬ শতাংশ ভোট পেয়ে সরকার গঠন করেছে বলে উল্লেখ করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, আগামী দিনে রাজ্যের বিভিন্ন নির্বাচনে ৬০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হবে বিজেপি।
ফলতা পুনর্নির্বাচন, রেজিনগর ও নন্দীগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে নিজের বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি দেন তিনি। আগামী দিনে পুরসভা, কর্পোরেশন এবং পঞ্চায়েত নির্বাচনেও বিজেপির সাফল্য মিলবে বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তবে এগুলি বিজেপির রাজনৈতিক দাবি। হলদিয়া পুরসভায় নির্বাচনের ফল কী হবে, তা ভোটের ফলাফল প্রকাশের পরেই স্পষ্ট হবে।
হলদিয়া পুরভোট নিয়ে একই সুর শোনা গিয়েছে তমলুক সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি মলয় সিনহার বক্তব্যেও। তিনি দাবি করেন, তৃণমূলের রাজনৈতিক অস্তিত্বই নেই এবং বিরোধীরা আসন জিততে পারবে না।
নন্দীগ্রামে তৃণমূল প্রার্থী দিতে পারেনি বলেও দাবি করেন মলয়। তাঁর বক্তব্য, বিরোধীদের খাতা খোলার প্রশ্নই উঠছে না।
হলদিয়া পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপির এই আক্রমণাত্মক অবস্থান রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলেছে। তবে বিরোধী দলগুলির প্রতিক্রিয়া এবং নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক নির্ঘণ্ট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এই প্রতিবেদনে নেই।



