২০২০ সালে টিটাগড়ে বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লা খুনের ঘটনা ঘিরে ফের রাজনৈতিক বিতর্ক। ওই মামলায় অভিযুক্ত উত্তম দাস ও প্রশান্ত চৌধুরীকে বিজেপির মঞ্চে দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বারাকপুরের বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী। তাঁদের বিজেপিতে যোগদান করানো হলে চরম পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। সাংবাদিক বৈঠকে কৌস্তভের মন্তব্য ঘিরে দলের অন্দরেও চাপানউতোরের ইঙ্গিত মিলেছে।
কৌস্তভের দাবি, মণীশ শুক্লা হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের বিজেপির নেতাদের আশপাশে দেখা যাচ্ছে। যদিও সাংবাদিক বৈঠকে তিনি নির্দিষ্ট করে কারও নাম উল্লেখ করেননি, তাঁর বক্তব্যে উত্তম দাস ও প্রশান্ত চৌধুরীকে ঘিরেই আপত্তির বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
২০২০ সালে টিটাগড়ে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে গুলিতে খুন হন মণীশ শুক্লা। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে তাঁকে গুলি করা হয়েছিল। ঘটনাটি সেই সময় রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন ফেলেছিল। তদন্তের সূত্রে এই ঘটনায় সুপারি কিলার ব্যবহারের বিষয়টি সামনে এসেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই মামলায় নাম জড়িয়েছিল বারাকপুরের তৎকালীন পুরপ্রধান উত্তম দাস এবং টিটাগড়ের প্রাক্তন পুরপ্রধান প্রশান্ত চৌধুরীর। কৌস্তভের অভিযোগ, সেই সময় তাঁরা শাসক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এখানে পাওয়া যায়নি।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর উত্তম ও প্রশান্ত বিজেপিতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে দাবি করেছেন কৌস্তভ। তাঁর বক্তব্য, মণীশ শুক্লার হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের কোনওভাবেই বিজেপিতে জায়গা দেওয়া উচিত নয়।
সাংবাদিক বৈঠকে কৌস্তভ বলেন, “আমাদের কিছু লোকের সঙ্গে মণীশ শুক্লার হত্যাকারীদের দেখা যাচ্ছে।” এরপরই তিনি হুঁশিয়ারি দেন, উত্তম দাস ও প্রশান্ত চৌধুরীকে বিজেপিতে নেওয়া হলে দলের রাজ্য কার্যালয়ের সামনে নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে দেবেন।
নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের প্রসঙ্গেও কথা বলেন কৌস্তভ। তিনি জানান, অতীতে নিজের প্রতিজ্ঞা রক্ষার জন্য সাড়ে তিন বছর মাথা কামিয়ে রেখেছিলেন। সেই প্রসঙ্গ তুলে তিনি নিজের রাজনৈতিক দৃঢ়তার কথা বোঝানোর চেষ্টা করেন।
কৌস্তভের মন্তব্যের পর প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন অর্জুন সিং। তাঁর বক্তব্য, “আমি জানি কীভাবে রাজনীতি করতে হয়।” তবে উত্তম দাস ও প্রশান্ত চৌধুরীকে বিজেপিতে নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা এই প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
মণীশ শুক্লা হত্যা মামলা নিয়ে আইনি পথে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন কৌস্তভ। ফলে এই মামলাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরের পাশাপাশি বিজেপির অভ্যন্তরীণ অবস্থানও আলোচনায় উঠে এসেছে।



