কংগ্রেসের সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সনিয়া গাঁধীর আত্মজীবনী ‘বিলঙ্গিং: এ জার্নি অফ লভ’ (Belonging: A Journey of Love) প্রকাশিত হতে চলেছে আগামী ১০ নভেম্বর। ব্যক্তিগত জীবন থেকে রাজীব গাঁধীর সঙ্গে পরিচয়, ভারতের রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘ পথচলা—বইয়ে উঠে আসবে জীবনের নানা অধ্যায়। প্রকাশের আগেই সনিয়ার মন্তব্য, তাঁকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ধারণা ও লেখালেখির জবাব নিজের ভাষায় দিতে চান তিনি। সেই সূত্রেই বইটি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সনিয়ার বক্তব্য, তাঁকে নিয়ে এত দিন যা লেখা হয়েছে, তার অনেকটাই তাঁর মতে মনগড়া অথবা অতিরঞ্জিত। অন্যের বর্ণনায় নিজের জীবনকে সীমাবদ্ধ না রেখে, নিজের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি পাঠকের সামনে তুলে ধরতেই স্মৃতিকথা লেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। বই প্রকাশের পর পাঠকের প্রতিক্রিয়া যে এক রকম হবে না, তা-ও মেনে নিয়েছেন কংগ্রেস নেত্রী।
সনিয়ার এই বইয়ের প্রকাশনা নিয়েও তৈরি হয়েছিল জটিলতা। প্রথমে পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়ার (Penguin Random House India) মাধ্যমে ভারতীয় সংস্করণ প্রকাশের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। পাণ্ডুলিপির কিছু অংশে সম্পাদনা ও বাদ দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে মতপার্থক্যের খবর প্রকাশ্যে আসে। তবে প্রকাশনা সংস্থাটি জানিয়েছিল, আলোচনায় একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছনো সম্ভব হয়নি এবং সিদ্ধান্তের পিছনে কোনও বাহ্যিক চাপ ছিল না।
শেষ পর্যন্ত ভারতীয় সংস্করণ প্রকাশের দায়িত্ব নিয়েছে হার্পারকলিন্স ইন্ডিয়া (HarperCollins India)। আন্তর্জাতিক সংস্করণ প্রকাশ করবে অ্যালফ্রেড এ নপ (Alfred A. Knopf)। দুই সংস্করণই প্রকাশের নির্ধারিত দিন ১০ নভেম্বর ২০২৬।
স্মৃতিকথায় যুদ্ধবিধ্বস্ত ইতালিতে সনিয়ার শৈশব, কেমব্রিজে রাজীব গাঁধীর সঙ্গে পরিচয়, বিয়ের পর ভারতে আসা এবং ভারতীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্কের কথা রয়েছে। ইন্দিরা গাঁধীর হত্যাকাণ্ড, রাজীব গাঁধীর মৃত্যু এবং পরবর্তী সময়ে কংগ্রেসের নেতৃত্ব গ্রহণের অভিজ্ঞতাও বইটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
রাজীব গাঁধীকে প্রধানমন্ত্রী করার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিলেন বলে সনিয়া আগে যে অবস্থানের কথা জানিয়েছেন, সেই অভিজ্ঞতাও তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক যাত্রার অংশ। তবে বইয়ে ঠিক কোন কোন নতুন তথ্য বা অপ্রকাশিত ঘটনা থাকবে, তা সম্পূর্ণ বই প্রকাশের আগে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
নিজের জীবনকে ঘিরে তৈরি হওয়া প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে পাঠকের কাছে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরাই এই স্মৃতিকথার অন্যতম উদ্দেশ্য বলে সনিয়া জানিয়েছেন। তাঁর মতে, বই পড়ে কেউ তাঁর সম্পর্কে আগের ধারণা বদলাতে পারেন, আবার কারও দৃষ্টিভঙ্গি আরও নেতিবাচকও হতে পারে। সেই সম্ভাবনা মেনেই তাঁর মন্তব্য, “আগে অন্যদের ক্ষেত্রে হয়েছে। এ বার আমার পালা।”



