কর্নাটকে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। ২০২৬ সালের ১৬ জুন রাজ্যে ভোটারের সংখ্যা ছিল প্রায় ৫.৫৪ কোটি। সংশোধন প্রক্রিয়ার পরে চূড়ান্ত তালিকায় ভোটারের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪.৫৪ কোটিতে। অর্থাৎ, আগের তালিকার তুলনায় নেট হিসাবে প্রায় ১ কোটি ভোটার কমেছে।
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত এই তালিকা তৈরি করতে প্রায় ১২৯ দিন ধরে যাচাই-বাছাই চালানো হয়েছে। এর আগে ২৪ অগস্ট প্রকাশিত খসড়া তালিকায় প্রায় ১.০৮ কোটি নাম বাদ পড়েছিল। সেই সময় কর্নাটকে ভোটারের সংখ্যা ৫.৫৪ কোটি থেকে কমে প্রায় ৪.৪৬ কোটিতে নেমে আসে।
নির্বাচন কমিশনের সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনুপস্থিত, অন্যত্র চলে যাওয়া, মৃত, একাধিকবার নথিভুক্ত এবং ‘অন্যান্য’ শ্রেণিতে থাকা ভোটারদের তথ্য যাচাই করা হয়েছে। খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়া নামের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ ছিল স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে গিয়েছেন বলে চিহ্নিত ভোটারদের। এই শ্রেণিতে প্রায় ৬৫.৪৫ লক্ষ নাম ছিল।
খসড়া তালিকায় নাম থাকা প্রায় ৪৩.৮২ লক্ষ ভোটারকে নথি যাচাইয়ের জন্য নোটিস পাঠানো হয়েছিল। তাঁদের শুনানি ও যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরে প্রায় ৬০ হাজার ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হয়নি বলে সরকারি সূত্রের উল্লেখ করে টাইমস অফ ইন্ডিয়া জানিয়েছে। অন্যদিকে, খসড়া তালিকা প্রকাশের পরে নতুন করে নাম তোলার জন্য ফর্ম ৬-এর মাধ্যমে প্রায় ৭.৮৭ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছিল।
এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে কর্নাটকে রাজনৈতিক বিতর্কও হয়েছে। বিশেষ করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার আবেদন বেড়ে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফর্ম ৭-এর মাধ্যমে নাম বাদ দেওয়ার জন্য ৫৮,৪৭৫টি আবেদন জমা পড়েছিল। পরে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত এই সংখ্যা বেড়ে ২.২৮ লক্ষেরও বেশি হয়। তবে এই আবেদনগুলির সবকটিই যে কার্যকর হয়েছে, এমন নয়।
চূড়ান্ত তালিকায় নাম রয়েছে কি না, তা ভোটারেরা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে যাচাই করতে পারবেন। রাজ্য, জেলা, বিধানসভা কেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট ভোটার তালিকার অংশ নির্বাচন করে তালিকার PDF-ও ডাউনলোড করা যাবে। ভোটার পরিচয়পত্রের EPIC নম্বর ব্যবহার করেও অনলাইনে নিজের নাম খোঁজা যায়।



