ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (Special Intensive Revision) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (Election Commission of India) হলফনামার জবাব দিতে আবেদনকারীদের ১০ দিন সময় দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India)। মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। এসআইআর প্রক্রিয়া এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে দায়ের হওয়া একাধিক আবেদনের পরবর্তী শুনানি ১৭ নভেম্বর হতে পারে।
শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে ছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মহনা। নির্বাচন কমিশন সোমবার রাতে সুপ্রিম কোর্টে ২৪৮ পাতার হলফনামা জমা দিয়ে এসআইআর সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলির পক্ষে সওয়াল করে। কমিশনের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের বিষয়ে নেওয়া তিনটি নির্দেশই তিন সদস্যের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে জারি হয়েছিল।
কমিশন হলফনামায় জানিয়েছে, ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার জন্য ব্যবহৃত আইনসম্মত ফর্ম ৬ (Form 6)-এ কোনও সংশোধন করা হয়নি। অনলাইন আবেদনে এসআইআর সংক্রান্ত ঘোষণাপত্র যেভাবে দেখানো হয়েছিল, তাতে ফর্মে পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে মনে হতে পারে বলে স্বীকার করেছে কমিশন। সেই বিভ্রান্তি দূর করতে ২১ অক্টোবর থেকে অনলাইন আবেদনপ্রক্রিয়ায় ফর্ম ৬ এবং এসআইআর সংক্রান্ত ঘোষণাপত্র আলাদা অংশে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরানো বা তাঁর কাজের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি-সহ একাধিক আবেদন সুপ্রিম কোর্টে জমা পড়েছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র নেতারাও এই বিষয়ে আবেদন করেছেন। আবেদনকারীদের অভিযোগ, এসআইআর পরিচালনা এবং কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। নির্বাচন কমিশন অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এ দিন রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেনের করা একটি নতুন আবেদন নিয়েও নির্বাচন কমিশন-সহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে নোটিস দিয়েছে শীর্ষ আদালত। ওই আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, বিহারে এসআইআর চলাকালীন সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদন ছাড়াই ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন করা হয়েছিল। দোলা সেনের হয়ে সওয়াল করে প্রবীণ আইনজীবী মানেকা গুরুস্বামী আদালতে দাবি করেন, পরিবর্তনগুলি শীর্ষ আদালতের অনুমোদন পেয়েছিল বলে কমিশনের বক্তব্য সঠিক নয়। অভিযোগের সত্যতা নিয়ে অবশ্য আদালত এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।
এসআইআর নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ভোটার তালিকার নির্ভুলতা, নাম বাদ পড়ার অভিযোগ এবং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া। এই মামলার ফল ভোটার তালিকা সংশোধনের পদ্ধতি ও কমিশনের জবাবদিহি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে আপাতত আদালত শুধু আবেদনকারীদের জবাব জমা দেওয়ার সময় দিয়েছে; এসআইআর বন্ধ করা বা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত নির্দেশ দেয়নি।



