জ্ঞানেশের নিয়োগ ও কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে মমতা তৃণমূলের মামলা, এ সপ্তাহেই শুনবে সুপ্রিম কোর্ট

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নিয়োগ ও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে তৃণমূলের মামলার শুনানি চলতি সপ্তাহে। পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর মামলার সঙ্গেই বিষয়টি শুনবে সুপ্রিম কোর্ট।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (Chief Election Commissioner) জ্ঞানেশ কুমারের নিয়োগ এবং নির্বাচন কমিশনের একাধিক সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে তৃণমূল কংগ্রেসের দায়ের করা মামলার দ্রুত শুনানি হবে চলতি সপ্তাহে। সোমবার সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court of India) প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চের কাছে জরুরি শুনানির আবেদন জানান তৃণমূল সাংসদ ও আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী। আদালত জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত মামলার সঙ্গেই এই আবেদনটির শুনানি হবে।

তৃণমূলের এই মামলায় শুধু জ্ঞানেশ কুমারের নিয়োগের বৈধতা নয়, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি এবং আইন মেনে কমিশনের কাজকর্ম পরিচালিত হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে। সাংসদ দোলা সেনের করা মামলায় কেন্দ্রীয় সরকারকে পক্ষ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের অন্য দুই সদস্য সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশীকেও মামলায় যুক্ত করা হয়েছে বলে সংবাদসূত্রে জানানো হয়েছে।

জ্ঞানেশ কুমার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পদে নিযুক্ত হওয়ার পর থেকেই তাঁর নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী দলগুলির আপত্তি ছিল। ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী গঠিত বাছাই কমিটিতে প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পাশাপাশি লোকসভার বিরোধী দলনেতাও থাকেন। বিরোধীদের বক্তব্য, ওই ব্যবস্থায় সরকারের প্রভাব বেশি। জ্ঞানেশের নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করার ক্ষেত্রে সেই আপত্তিও রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ হয়ে উঠেছে।

এর মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের অন্দরে সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে মতবিরোধের অভিযোগ সামনে আসে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে একাধিকবার লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। ভোটার তালিকা সংশোধন, আবেদনপত্রের পরিবর্তন এবং কমিশনের অভ্যন্তরীণ কাজ বণ্টন নিয়ে তাঁদের আপত্তির কথা ওই প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়।

তবে নির্বাচন কমিশন ওই অভিযোগের জবাবে জানিয়েছিল, কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই বিভিন্ন মতামত ও পরামর্শ উঠে আসে। গত এক বছরে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মত ছিল বলেও কমিশনের বক্তব্য ছিল। ফলে কমিশনের অভ্যন্তরীণ কাজকর্ম নিয়ে প্রকাশিত অভিযোগ এবং কমিশনের নিজস্ব বক্তব্য—দু’টিই এই মামলার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ।

এই বিতর্কের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে এই প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গেও ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়া এবং আবেদন বিবেচনাধীন থাকা নিয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। তৃণমূলের মামলায় নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে যে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে সেই বিষয়গুলিও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারে।

সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর সংক্রান্ত পৃথক মামলাও বিচারাধীন। সোমবারের শুনানিতে জ্ঞানেশ কুমার সংক্রান্ত মামলাটিকে সেই মামলার সঙ্গে যুক্ত করে একসঙ্গে শুনানির কথা জানানো হয়েছে। ফলে চলতি সপ্তাহে আদালতে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন কমিশনের কাজের পদ্ধতি—দুই বিষয়েই বক্তব্য পেশের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

জ্ঞানেশ কুমারের নিয়োগ ও সিদ্ধান্তকে ঘিরে আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিবাদও চলছে। বিরোধী দলগুলির জোট ‘ইন্ডিয়া’ তাঁর অপসারণের দাবিতে সংসদীয় পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে এবং দিল্লিতে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তৃণমূলের মামলায় কী যুক্তি আদালতে উঠবে এবং বিচারপতিরা কী নির্দেশ দেন, তা নির্ভর করবে শুনানিতে পেশ করা বক্তব্য ও নথির উপর।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর