দিল্লি SIR: নোটিস পাওয়া ভোটারদের ৯৪ শতাংশের নাম চূড়ান্ত তালিকায়, কী বলছে নির্বাচন কমিশন?

দিল্লিতে SIR-এর আওতায় আনম্যাপ্‌ড ও তথ্যগত অসঙ্গতির জন্য নোটিস পাওয়া ৩৩.১৪ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ৩১.২৬ লক্ষের মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। বাকি মামলার সময়সীমা ৩০ নভেম্বর, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের কথা ৪ ডিসেম্বর।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দিল্লিতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR) প্রক্রিয়ায় আনম্যাপ্‌ড এবং তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে নোটিস পাওয়া ভোটারদের ৯৪ শতাংশেরও বেশি নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ, নোটিস পাওয়ার অর্থই যে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া, তা নয়। দিল্লির ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

নির্বাচন কমিশনের (Election Commission of India) সংশোধন প্রক্রিয়ায় দু’টি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে—পুরনো ভোটার তালিকার সঙ্গে সংযোগ বা ম্যাপিংয়ের অভাব এবং ভোটারদের দেওয়া তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি। এই দুই কারণে যাঁদের নোটিস পাঠানো হয়েছিল, তাঁদের অধিকাংশের নামই চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

দিল্লির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের (Chief Electoral Officer) তথ্য অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৩৩,১৪,০৩২টি নোটিসের মধ্যে ৩১,২৬,৫৭৬টি নিষ্পত্তি হয়েছে। শতাংশের হিসাবে এই সংখ্যা ৯৪.৩৪। নিষ্পত্তি হওয়া মামলাগুলির সংশ্লিষ্ট ভোটারদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে।

এই পরিসংখ্যানের অর্থ, নোটিস পাওয়া প্রত্যেক ভোটারের নাম ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত তালিকায় উঠে গিয়েছে, এমন নয়। বরং তাঁদের নথি যাচাইয়ের পর অধিকাংশ মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে এবং নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য রাখা হয়েছে। বাকি মামলাগুলির নিষ্পত্তির সময়সীমা ৩০ নভেম্বর।

নোটিসের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ছিল দু’টি বিভাগে। প্রথমত, ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে বর্তমান ভোটারের তথ্যের সংযোগ খুঁজে না পাওয়া বা ‘আনম্যাপ্‌ড’ (Unmapped) হিসেবে চিহ্নিত হওয়া। দ্বিতীয়ত, ভোটারের নথিতে তথ্যগত অসঙ্গতি বা ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি’ (Logical Discrepancy)।

প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯,৩৪,২৪৩ জন ভোটারকে তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে নোটিস দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ১৮,৯৬,৬৭৫টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে, যা প্রায় ৯৮.০৫ শতাংশ। অন্যদিকে, ১৩,৭৯,৭৮৯ জন ভোটারের ক্ষেত্রে ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে সংযোগের প্রমাণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তাঁদের মধ্যে ১২,২৯,৯০১টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে, যা প্রায় ৮৯.১৩ শতাংশ।

নথিতে নামের বানান, টাইপের ভুল, ভোটারের সঙ্গে তাঁর বাবা-মায়ের বয়সের ব্যবধান এবং পরিবারের সন্তানের সংখ্যা সংক্রান্ত তথ্যের মতো বিষয়েও অসঙ্গতি ধরা পড়েছিল। তবে এই ধরনের অসঙ্গতি থাকলেই যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ভোট দেওয়ার যোগ্য নন, তা নয়। যাচাইয়ের মাধ্যমে তথ্যের সত্যতা নির্ধারণ করাই এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য।

দিল্লিতে SIR প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ৩০ জুন। তার আগে রাজধানীতে ভোটারের সংখ্যা ছিল প্রায় ১ কোটি ৪৫ লক্ষ। ৩১ অগস্ট প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকায় নাম ছিল প্রায় ৯৭.৫৩ লক্ষ ভোটারের। অর্থাৎ, অনুপস্থিত, অন্যত্র চলে যাওয়া, মৃত অথবা একাধিকবার নাম থাকার মতো কারণে প্রায় ৪৭.৬ লক্ষ নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল। এরপর খসড়া তালিকায় থাকা ভোটারদের মধ্যেই প্রায় ৩৩.১৪ লক্ষকে নোটিস পাঠানো হয়।

নোটিসের জবাব দিতে গিয়ে সাধারণ ভোটারদের অসুবিধার অভিযোগ সামনে আসার পর যাচাইয়ের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনে নির্বাচন কমিশন। ২৬ সেপ্টেম্বরের নির্দেশে নথি সংগ্রহের জন্য বুথ স্তরের আধিকারিকদের (Booth Level Officers বা BLO) সংশ্লিষ্ট ভোটারদের বাড়িতে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। সাধারণ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত শুনানিতে হাজিরা বাধ্যতামূলক না রেখে, বিশেষ পরিস্থিতিতে শুনানির ব্যবস্থা রাখার কথা জানানো হয়। পরিবারের কোনও প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যকেও প্রয়োজন অনুযায়ী ভোটারের হয়ে শুনানিতে উপস্থিত থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এখন পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ৩০ অক্টোবর। ওই দিন পর্যন্ত খসড়া তালিকা নিয়ে দাবি ও আপত্তি জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। নোটিস পাওয়া বাকি ভোটারদের মামলাগুলিও ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নিষ্পত্তি করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সব প্রক্রিয়া শেষ হলে ৪ ডিসেম্বর দিল্লির চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর