ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের তাণ্ডবে ওড়িশায় বন্যা, গঞ্জামে ৩০০ গ্রাম জলবন্দি! আটকে পড়াদের উদ্ধারে হেলিকপ্টার

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে টানা বৃষ্টিতে গঞ্জাম ও গজপতি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জলবন্দি বাসিন্দাদের উদ্ধারে হেলিকপ্টার ব্যবহারের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে টানা ভারী বৃষ্টিতে দক্ষিণ ওড়িশার একাধিক জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গঞ্জাম (Ganjam) জেলায় বহু গ্রাম জলমগ্ন হয়ে পড়ায় বিচ্ছিন্ন এলাকায় আটকে থাকা বাসিন্দাদের উদ্ধারে হেলিকপ্টার ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। নদীর জল বিপদসীমা ছাড়ানোয় ভেসে গিয়েছে রাস্তার অংশ, ব্যাহত হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। ঘূর্ণিঝড়টি শক্তি হারিয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হলেও বৃষ্টি ও বন্যার বিপদ কাটেনি।

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবরের সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, গঞ্জামের সানাখেমুন্ডি ব্লকের একাধিক গ্রামে জল ঢুকে পড়েছে। কিছু এলাকায় রাস্তা ডুবে যাওয়ায় সাধারণ যানবাহনে পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়েছে। রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী বিভূতি ভূষণ জেনা জানিয়েছেন, জলবন্দি বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যেতে হেলিকপ্টারে উদ্ধারের ব্যবস্থা শুরু হয়েছে।

গঞ্জামের পাশাপাশি গজপতি (Gajapati) জেলাতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ি এলাকায় ধস নেমেছে, গাছ উপড়ে পড়েছে এবং একাধিক রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু গ্রামে যাতায়াতের পথ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজেও সমস্যা হচ্ছে।

গঞ্জাম জেলার সরদা, সানাখেমুন্ডি এবং দিগপাহান্ডি এলাকায় বৃষ্টির জেরে নদী ও নালার জল বেড়েছে। ঘোড়াহাড়া নদীর জল উপচে পালাসপুরের কাছে সেতুর উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জাতীয় সড়ক ৩২৬-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে যান চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছে। বন্যার জল রাস্তা ঢেকে দেওয়ায় দুই দিকে আটকে পড়েছেন বহু যাত্রী। পুলিশ ব্যারিকেড বসিয়ে বিপজ্জনক পথে যাতায়াত আটকাচ্ছে।

ভানজানগরের বুড়ি ঠাকুরানি মন্দিরেও জল বেড়ে আটকে পড়েছিলেন ১৫ জন। বৃহস্পতিবার দমকল ও জরুরি পরিষেবার কর্মীরা তাঁদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। প্রশাসনের তরফে নিচু এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া এবং ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে।

আবহাওয়া দফতর (India Meteorological Department বা IMD) জানিয়েছে, অর্ণব উত্তর উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ ও সংলগ্ন এলাকার উপর দিয়ে উত্তর দিকে এগোচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালে এটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে এবং পরে আরও দুর্বল হয়ে নিম্নচাপ অঞ্চলে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ঘূর্ণিঝড় দুর্বল হওয়া মানেই বৃষ্টির বিপদ সঙ্গে সঙ্গে কেটে যাওয়া নয়—দক্ষিণ ওড়িশায় নদীর জলস্তর ও বৃষ্টির পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন।

অন্ধ্রপ্রদেশে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে গাছ পড়া, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া এবং দেওয়াল ভেঙে পড়ার মতো ঘটনায় সাত জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে প্রশাসন। ঘূর্ণিঝড়ের আগেই অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা মিলিয়ে ১ লক্ষ ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছিল। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি জানিয়েছেন, আগাম প্রস্তুতি ও সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থার ফলে রাজ্যে শূন্য প্রাণহানির লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হয়েছে।

ওড়িশার প্রশাসন বিদ্যুৎ, পানীয় জল এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক করার নির্দেশ দিয়েছে। জাতীয় ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, দমকল এবং স্থানীয় উদ্ধারকারী দলকে সতর্ক রাখা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় আটকে থাকা মানুষকে উদ্ধার, আশ্রয়কেন্দ্রে খাবার পৌঁছে দেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা পুনরুদ্ধার—এই মুহূর্তে প্রশাসনের প্রধান কাজ।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর