রঞ্জি ট্রফি ২০২৬-এ (Ranji Trophy 2026) দুরন্ত ছন্দে বাংলা। কেরলকে তাদের ঘরের মাঠে ২৮৭ রানে হারিয়ে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিল অভিমন্যু ঈশ্বরণের দল। বাংলার এই জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নিলেন স্পিনার প্রদীপ্ত প্রামাণিক। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০ উইকেট নিয়ে কেরলের ব্যাটিং লাইনআপকে কার্যত ধসিয়ে দিলেন তিনি। এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে এলিট গ্রুপ সি-র শীর্ষস্থান আরও মজবুত করল বাংলা।
প্রথম ইনিংসে বাংলার ৩৫০ রানের জবাবে মাত্র ১৪১ রানে শেষ হয়ে যায় কেরলের ইনিংস। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলা ১৯৮ রান তোলার পর কেরলের সামনে জয়ের লক্ষ্য ছিল ৪০৮। কিন্তু বাংলার বোলারদের সামনে সেই লক্ষ্য তাড়া করা তো দূরের কথা, দ্বিতীয় ইনিংসেও ১২০ রানে গুটিয়ে যায় কেরল। চতুর্থ দিনে ম্যাচের নিষ্পত্তি করে দেয় বাংলার বোলিং বিভাগ।
প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে বড় অবদান রেখেছিলেন শাহবাজ আহমেদ। ২০৩ বলে ১২১ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন তিনি। ওপেনার অঙ্কুর পাল করেন ৬৬ রান। সুমন্ত গুপ্তের ব্যাট থেকে আসে ৪৯ রান। এই তিন ব্যাটারের অবদানেই প্রথম ইনিংসে ৩৫০ রানের পুঁজি পায় বাংলা। কেরলের হয়ে চারটি উইকেট নেন আদিত্য সরওয়াতে।
জবাবে কেরলের প্রথম ইনিংস শেষ হয় মাত্র ১৪১ রানে। অধিনায়ক বিষ্ণু বিনোদ করেন ৪১ রান। প্রদীপ্ত প্রামাণিকের স্পিনে সমস্যায় পড়েন কেরলের ব্যাটারেরা। চারটি উইকেট নেন প্রদীপ্ত। মহম্মদ শামি তুলে নেন তিনটি উইকেট। ফলে প্রথম ইনিংসেই ২০৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড পেয়ে যায় বাংলা।
দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য ব্যাট হাতে খুব বেশি দূর এগোতে পারেনি বঙ্গব্রিগেড। ১৯৮ রানেই শেষ হয় বাংলার ইনিংস। অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণ করেন ৪৭ রান। কেরলের অভিজ্ঞ স্পিনার জলজ সাক্সেনা পাঁচটি উইকেট নেন। আদিত্য সরওয়াতের ঝুলিতে যায় তিনটি উইকেট। তবুও দুই ইনিংস মিলিয়ে বাংলার লিড দাঁড়ায় ৪০৭ রানে। কেরলের সামনে জয়ের লক্ষ্য ছিল ৪০৮।
তৃতীয় দিনের শেষে কেরলের স্কোর ছিল চার উইকেটে ৫৩ রান। শেষ দিনে জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন ছিল আরও ৩৫৫ রান, হাতে ছিল ছয়টি উইকেট। কিন্তু বাংলার বোলারদের সামনে সেই লড়াই বেশিক্ষণ টিকল না। মাত্র ১২০ রানেই শেষ হয়ে যায় কেরলের দ্বিতীয় ইনিংস। মহম্মদ নিধিশের দলকে শেষ করে দিতে ছয়টি উইকেট নেন প্রদীপ্ত। দুই ইনিংস মিলিয়ে তাঁর শিকার ১০ উইকেট। শামি ও শাহবাজ আহমেদও দুই ইনিংসে দু’টি করে উইকেট নেন।
বাংলার এই জয়ের পর স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় প্রদীপ্তের ধারাবাহিকতা। তবে দলের সাফল্য শুধু একজন বোলারের উপর নির্ভর করেনি। প্রথম ইনিংসে শাহবাজের শতরান, অঙ্কুর পালের গুরুত্বপূর্ণ রান এবং শামির পেস আক্রমণ—সব মিলিয়েই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলা।
২০৯ রানের লিড পাওয়ার পর কেরলকে ফলো অন না করিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাংলার অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণ। সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে দল। তিন ম্যাচে তিন জয় বাংলার আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। রঞ্জির পরের ম্যাচগুলিতে এই ছন্দ ধরে রাখাই এখন দলের সামনে বড় লক্ষ্য।



