মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) ইস্তফার দাবিতে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র (INDIA bloc) প্রস্তাবিত ‘দিল্লি চলো’ কর্মসূচিতে দেশের সব ছাত্র সংগঠনকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে সমাবেশের ডাক দিয়েছে বিরোধী জোট। রাহুলের বক্তব্য, এই কর্মসূচি কোনও একটি রাজনৈতিক দলের নয়, বরং গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার লড়াই। একই সঙ্গে পুলিশের বাধা বা লাঠিচার্জের ভয় না পেয়ে ছাত্র-যুবদের আন্দোলনে যোগ দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
এক ভিডিয়োবার্তায় রাহুল অভিযোগ করেন, দেশে ‘ভোট চুরি’ হচ্ছে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে যাঁরা অসন্তুষ্ট, তাঁদের সকলেরই এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া উচিত। তবে ভোট কারচুপির অভিযোগ এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে বিরোধীদের এই কর্মসূচির পরবর্তী গতিপ্রকৃতি এখন গুরুত্বপূর্ণ।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) অপসারণের দাবিতে আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে সমাবেশ করতে চলেছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA bloc)। সেই কর্মসূচিতে রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে দেশের সমস্ত ছাত্র সংগঠনকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক ভিডিয়োবার্তায় পুলিশের বাধা বা লাঠিচার্জের ভয় না পাওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক প্রশ্ন রয়েছে। সেই অভিযোগ সামনে রেখেই গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার ডাক দিয়েছে বিরোধী শিবির।
রাহুলের বক্তব্য, এই মিছিল কোনও একটি রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি নয়। যাঁরা গণতান্ত্রিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংবিধান রক্ষার পক্ষে, তাঁদের সকলেরই এই আন্দোলনে অংশ নেওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে যাঁরা অসন্তুষ্ট, তাঁদেরও দিল্লির কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
‘পুলিশ বা লাঠির ভয় পাবেন না’, ছাত্র-যুবদের উদ্দেশে কী বললেন রাহুল?
রাহুল গান্ধীর আবেদন, কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত কি না, তা বিবেচনা না করেই ছাত্র সংগঠনগুলির এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া উচিত। তাঁর বক্তব্য, দেশের গণতন্ত্র, সংবিধান এবং মানুষের মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে সবাইকে একজোট হতে হবে।
পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সরব হয়েছেন কংগ্রেস নেতা। অতীতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের আটক করার ঘটনা নিয়ে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই রাহুলের বার্তা, পুলিশের বাধা বা লাঠিচার্জের আশঙ্কায় যেন কেউ পিছিয়ে না যান। তবে রবিবারের কর্মসূচিতে পুলিশের অনুমতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য জমায়েত নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঘোষণার ভিত্তিতে যাচাই করা প্রয়োজন।
নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই সরব বিরোধী দলগুলি। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া এবং সংশোধন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে অভিযোগ তুলেছে কংগ্রেস-সহ ‘ইন্ডিয়া’ জোটের একাধিক শরিক। এই অভিযোগগুলির ভিত্তিতেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের দাবি জানাচ্ছে বিরোধীরা।
তবে ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ বিরোধীদের বক্তব্যের অংশ। অভিযোগগুলিকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে দেখা যাবে না; সংশ্লিষ্ট তথ্য ও নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যও বিবেচনা করা জরুরি। বিরোধীদের দাবি, নির্বাচন প্রক্রিয়ার উপর মানুষের আস্থা বজায় রাখতে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে জবাবদিহি প্রয়োজন।
জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস ও ককরোচ জনতা পার্টির (Cockroach Janata Party বা CJP) মধ্যে সমন্বয়ের সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সিজেপি নেতাদের গ্রেফতারির পর তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে রাহুল গান্ধী মন্তব্য করেছিলেন, যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা ওড়ানো অপরাধ হতে পারে না। অন্যদিকে, সিজেপিও ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ১ নভেম্বরের কর্মসূচিকে সমর্থন জানিয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
তবে দুই পক্ষের মধ্যে সমর্থন থাকলেও রবিবারের সমাবেশে সিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব সরাসরি উপস্থিত থাকবেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। এর আগে একই দাবিতে পৃথক কর্মসূচি করেছিল দুই শিবির। এ বার একই দিনে একই দাবিকে সামনে রেখে আন্দোলন হওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে সমন্বয় কতটা তৈরি হয়, তা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে সমাবেশ
বিরোধী জোটের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী রবিবার, ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে ‘চলো দিল্লি’ মিছিল ও সমাবেশ হবে। তার আগে ৩০ অক্টোবর কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গের বাসভবনে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতীকী ‘পাবলিক ইমপিচমেন্ট’ কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। রামলীলা ময়দানে এই প্রতীকী কর্মসূচির অনুমতি না মেলায় স্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খবর।
রবিবারের সমাবেশে ছাত্র সংগঠন, নাগরিক সমাজ এবং বিরোধী জোটের বিভিন্ন দলের অংশগ্রহণ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। রাহুল গান্ধীর আহ্বানে ছাত্র-যুবদের সাড়া কতটা মেলে, তা সমাবেশের দিনই স্পষ্ট হবে।



