‘মোদি জ্ঞানেশ কুমারকে সরালে ৩০ সেকেন্ডেই বন্ধ হবে বিক্ষোভ’, দিল্লির ব্যবসায়ীদের বার্তা রাহুলের!

দিল্লির রামলীলা ময়দানে ১ নভেম্বরের প্রস্তাবিত সমাবেশ পিছোনোর আবেদন ব্যবসায়ী সংগঠনের। জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবি তুলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করলেন রাহুল গান্ধী।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দিল্লির ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের জবাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবি তুললেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর কথা বললেই দেশজুড়ে বিক্ষোভ ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে বন্ধ হয়ে যাবে বলে দাবি করেছেন তিনি। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR) এবং কথিত ‘ভোটচুরি’ নিয়ে বিরোধীদের আন্দোলনের আবহে রাহুলের এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন মাত্রা পেল।

বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে একটি বড় সমাবেশ করার প্রস্তাব দিয়েছে। উৎসবের মরসুমে এই কর্মসূচির কারণে ব্যবসায়িক ক্ষতি হতে পারে, এই আশঙ্কা জানিয়ে সমাবেশ পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন করেছিলেন দিল্লির ব্যবসায়ীদের সংগঠন চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (Chamber of Trade and Industry বা CTI)। সোমবার সমাজমাধ্যমে সেই উদ্বেগের জবাব দিতে গিয়ে আন্দোলনের কারণ ব্যাখ্যা করেন রাহুল।

রাহুলের বক্তব্য, ভোটারদের ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তার প্রভাব শুধু রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ থাকে না; সাধারণ মানুষের দোকানপাট, সঞ্চয় এবং ভবিষ্যৎও তার সঙ্গে জড়িত। তাঁর অভিযোগ, বিক্ষোভের সময়ে মেট্রো পরিষেবা বন্ধ রাখা এবং রাস্তা আটকে দেওয়ার মতো পদক্ষেপের কারণে রাজধানীতে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। তবে এই বিষয়ে সরকারের বক্তব্য বা বিধিনিষেধের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ওই পোস্টে দেননি তিনি।

‘ভোটচুরি’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করে কংগ্রেস নেতা দীর্ঘদিন ধরেই নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। বিশেষ করে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-কে কেন্দ্র করে বিরোধীদের আপত্তি রয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তাঁর অপসারণের দাবি জানাচ্ছে বিরোধী শিবির। এগুলি বিরোধীদের অভিযোগ; প্রমাণিত সত্য হিসেবে সেগুলিকে বিবেচনা করা যায় না।

রাহুলের পোস্টে জ্ঞানেশ কুমারকে ‘চার নম্বর অভিযুক্ত’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে তাঁর একটি পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপনায় নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের ছবি দেখানো হয়েছিল বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবে সোমবারের পোস্টে প্রথম তিন জনকে আলাদা করে চিহ্নিত করেননি তিনি।

এদিকে, ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে উৎসবের মরসুমে দিল্লির বাজারগুলিতে ক্রেতাদের আনাগোনা এবং পরিবহণ ব্যবস্থা। চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-র চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়েল কংগ্রেস নেতাকে চিঠি দিয়ে ১ নভেম্বরের সমাবেশ ১০ নভেম্বরের পর আয়োজন করার অনুরোধ জানিয়েছেন। সংগঠনটির আশঙ্কা, সমাবেশ ঘিরে যান চলাচলে বিধিনিষেধ ও রাস্তা বন্ধ থাকলে পাইকারি এবং খুচরো ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাদের দাবি, সম্ভাব্য ক্ষতির অঙ্ক ১০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এই অঙ্ক ব্যবসায়ী সংগঠনের আশঙ্কা, নিশ্চিত ক্ষতির হিসাব নয়।

১ নভেম্বরের সমাবেশের আগে ব্যবসায়ীদের এই আবেদন এবং রাহুলের পাল্টা বার্তা—দুটিই এখন রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক আলোচনার অংশ। বিরোধী জোটের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। অন্যদিকে, ব্যবসায়ীরা উৎসবের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাজার ও পরিবহণ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখার পক্ষে সওয়াল করছেন। সমাবেশের দিনক্ষণ নিয়ে বিরোধী জোটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে নজর রয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর