মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) বাতিলের দাবিতে আন্দোলনের সময় দিল্লি পুলিশ শারীরিক নিগ্রহ করেছে বলে অভিযোগ তুললেন আম আদমি পার্টির (AAP) রাজ্যসভা সাংসদ সঞ্জয় সিংহ। এই অভিযোগ জানিয়ে সংসদের স্বাধিকার রক্ষা কমিটির দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। ২, ১০ ও ১২ অক্টোবর পুলিশ তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও মারধর করেছে বলে অভিযোগ সাংসদের। দিল্লির পুলিশ কমিশনার-সহ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জিও জানিয়েছেন তিনি।
সঞ্জয় সিংহের দাবি, এসআইআর সংক্রান্ত অনিয়ম এবং ‘ভোট চুরি’র অভিযোগে প্রতিবাদ চলাকালীন একাধিকবার তাঁকে পুলিশের নিগ্রহের মুখে পড়তে হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ২ অক্টোবর, ১০ অক্টোবর এবং ১২ অক্টোবর—এই তিন দিনে পুলিশ তাঁর সঙ্গে অভব্য আচরণ করে এবং শারীরিকভাবে হেনস্থা করে। ঘটনাগুলি নিয়ে সংসদের স্বাধিকার রক্ষা কমিটিতে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন আপ সাংসদ।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির জাফরপুর থানার স্টেশন হাউস অফিসার (SHO) এবং আরও কয়েক জন পুলিশ আধিকারিক। সঞ্জয়ের বক্তব্য, তিনি একজন নির্বাচিত সাংসদ। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করছেন, তা সংসদীয় মর্যাদা ও অধিকারের পরিপন্থী।
দিল্লির পুলিশ কমিশনারকেও অভিযোগের আওতায় এনেছেন সঞ্জয় সিংহ। তাঁর বক্তব্য, পুলিশি নিগ্রহের অভিযোগের সময় তিনি কমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ফোনে সাড়া মেলেনি, এমনকি পাঠানো বার্তারও উত্তর পাননি বলে দাবি করেছেন তিনি। সেই কারণেই সংশ্লিষ্ট থানার আধিকারিকদের পাশাপাশি পুলিশপ্রধানের ভূমিকাও খতিয়ে দেখার আর্জি জানিয়েছেন আপ সাংসদ।
সূত্রের খবর, সঞ্জয় সিংহের অভিযোগ বর্তমানে সংসদের স্বাধিকার রক্ষা কমিটির বিবেচনাধীন। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে কমিটি কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দিল্লি পুলিশের তরফে এই অভিযোগের জবাব বা ঘটনার বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনও বিবৃতি পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা প্রয়োজন।
জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ এবং এসআইআর বাতিলের দাবিকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের প্রতিবাদের আবহেই এই অভিযোগ সামনে এল। সঞ্জয় সিংহের অভিযোগের সত্যতা, সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের বক্তব্য এবং সংসদীয় কমিটির পরবর্তী পদক্ষেপ—এই তিনটি বিষয়ই মামলার অগ্রগতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।




