প্রমাণ সাজাতে পারে! ‘২৪ ঘণ্টা ফোন নিজেদের হেফাজতে রেখেছিল পুলিশ’, গুরুতর অভিযোগ CJP-র

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভের আগে আটক হওয়ার পর ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ফোন পুলিশের হেফাজতে ছিল বলে অভিযোগ CJP নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার। ফোন হ্যাক বা ক্লোন করে প্রমাণ সাজানোর আশঙ্কাও জানিয়েছেন তাঁরা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

‘ফোন হ্যাক বা ক্লোন করা হয়ে থাকতে পারে, এমনকি মিথ্যা প্রমাণও ঢুকিয়ে দেওয়া হতে পারে।’ দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে এমনই গুরুতর অভিযোগ তুললেন ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party বা CJP)-র নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। তাঁদের দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভের আগে আটক করার পর তাঁদের মোবাইল ফোন ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছিল। অথচ ফোন বাজেয়াপ্তির কোনও নথি দেওয়া হয়নি, আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও মেলেনি বলে অভিযোগ তাঁদের।

রবিবার, ১১ অক্টোবর, মুক্তির পর দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে গোটা ঘটনার বিবরণ দেন দুই নেতা। সৌরভ দাসের অভিযোগ, ১০ অক্টোবর মুম্বই থেকে আসা তাঁদের বিমান দিল্লিতে নামার পরই পুলিশ বিমানের ভিতর থেকে তাঁকে, আশুতোষ রাঙ্কা এবং দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে আটক করে। তাঁদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, কেন আটক করা হচ্ছে—তা স্পষ্ট করে জানানো হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

সৌরভের বক্তব্য, আটক করার পর তাঁদের মোবাইল ফোন নিয়ে নেয় পুলিশ। ফোন বাজেয়াপ্তির লিখিত মেমো এবং ডিভাইসের তথ্যের অখণ্ডতা যাচাই করার জন্য প্রয়োজনীয় হ্যাশ ভ্যালু চাওয়া হলেও তা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর। সেই কারণেই ফোনের তথ্য নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।

CJP নেতার আশঙ্কা, তাঁদের অজান্তে ফোনের তথ্য কপি বা ক্লোন করা হয়ে থাকতে পারে। এমনকি পরে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার জন্য ফোনে নথি বা অন্য তথ্য ঢুকিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি সৌরভ। তাঁর বক্তব্য, কোনও লিখিত নথি ছাড়া ফোন দীর্ঘ সময় পুলিশের কাছে থাকায় এই সন্দেহের যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

আটক থাকার সময় তিন নেতাকে আলাদা আলাদা জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন সৌরভ। তাঁর অভিযোগ, আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও পুলিশ সেই অনুমতি দেয়নি। সৌরভের বক্তব্য, আটক অবস্থায় তাঁদের কোনও অধিকার নেই—এমন কথা বলা হয়েছিল। এই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে পুলিশের পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

আশুতোষ রাঙ্কাও কেন্দ্রীয় সরকার ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সরব হন। তাঁদের বক্তব্য, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন থামানোর জন্যই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। CJP নেতারা জানান, আটক ও পুলিশি বাধা সত্ত্বেও তাঁদের আন্দোলন থামবে না। দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা।

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল CJP। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR) এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। সেই কর্মসূচিতে যোগ দিতে দিল্লিতে পৌঁছন CJP-র নেতারা। তাঁদের আটক করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে বিক্ষোভ দমন ও নাগরিক অধিকার নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।

রবিবার দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশে মুক্তি পান তিন নেতা। এক বছরের জন্য শান্তি ও সদাচরণ বজায় রাখার শর্তে তাঁদের ছাড়া হয় বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। মুক্তির পরই তাঁরা স্পষ্ট করে দেন, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

ফোন বাজেয়াপ্তির লিখিত নথি না দেওয়া, আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগে বাধা এবং ফোনের তথ্য নিয়ে আশঙ্কা—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখেই দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন CJP নেতারা। তাঁদের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ফোন পুলিশের কাছে থাকলেও কী করা হয়েছে, তার কোনও হিসাব তাঁদের দেওয়া হয়নি। সেই কারণেই ফোনে তথ্য বদলে বা প্রমাণ ঢুকিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

Advertisement

সদ্য প্রকাশিত