বিহারের বৈশালী জেলায় গঙ্গায় নৌকাডুবির ঘটনায় ১৩ জন নাবালকের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। মৃতদের প্রত্যেকের বয়স ১৫ বছর বা তার কম বলে জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে রাঘোপুর থানা এলাকার এই দুর্ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নিহতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সাহায্যের ঘোষণাও করেছেন তিনি।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটিতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন কিশোর-কিশোরী ছিলেন। তাঁরা একটি শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। যাত্রীদের মধ্যে অধিকাংশই রামপুর শ্যামচাঁদ গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। কী কারণে নৌকাটি উল্টে গেল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বৈশালীর জেলাশাসক বর্ষা সিং জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঘটনাস্থলটি জেলা সদর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে। দুর্ঘটনার পরেই শুরু হয় উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান।
গঙ্গায় নৌকাডুবিতে নাবালকদের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। নিহতদের নিকটাত্মীয়দের জন্য ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করা হয়েছে বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।
এই দুর্ঘটনায় একাধিক পরিবারের উপর নেমে এসেছে শোকের ছায়া। অল্পবয়সি এতগুলি প্রাণের মৃত্যুতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধরীও দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। রাজ্য সরকারের তরফে মৃতদের পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে বলে খবর।
সামাজিক মাধ্যমে শোকবার্তায় মুখ্যমন্ত্রী নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। এই কঠিন সময়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলিকে ধৈর্য ধরার শক্তি দেওয়ার জন্য প্রার্থনাও করেছেন তিনি।
তবে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের ঘোষিত আর্থিক সাহায্য কীভাবে দেওয়া হবে, তার নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ও সময়সীমা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজে নামে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (SDRF)। স্থানীয় ডুবুরিরাও তল্লাশি অভিযানে সাহায্য করছেন বলে জানিয়েছেন জেলাশাসক বর্ষা সিং।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া সাত জনকে নালন্দা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (NMCH) পাঠানো হয়েছে এবং তাঁদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছিল।
নৌকাটিতে ঠিক কত জন যাত্রী ছিলেন, তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে। ফলে উদ্ধারকাজের অগ্রগতি এবং দুর্ঘটনার পূর্ণ বিবরণ সামনে আসা গুরুত্বপূর্ণ।
শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। তবে নৌকাটি কেন উল্টে গেল, যাত্রীসংখ্যা কত ছিল এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনও নিয়ম লঙ্ঘিত হয়েছিল কি না—এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার কারণ জানতে প্রশাসনিক তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ হবে। একই সঙ্গে নদীপথে যাতায়াতের সময় নৌকার ধারণক্ষমতা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।




