পাকিস্তানে পরপর দুই দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল অন্তত ২১ জনের। বৃহস্পতিবার রাতে সিন্ধ প্রদেশের থারপারকার জেলার নাগরপারকরে সরকারি হাসপাতালের সামনেই একটি অ্যাম্বুল্যান্সে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। অক্সিজেন সিলিন্ডার বদলানোর সময় বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন এক প্রসূতিও। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েক জন। অন্যদিকে, পাঞ্জাব প্রদেশে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস উল্টে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১১ জনের। দুই ঘটনায় আহতের সংখ্যা ৩০ ছাড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ডানো ধান্ধালের একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে এক প্রসূতিকে অ্যাম্বুল্যান্সে করে মিঠি জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। হাসপাতালে পৌঁছনোর পর ওই মহিলাকে নামিয়ে অ্যাম্বুল্যান্সের অক্সিজেন সিলিন্ডার বদলাচ্ছিলেন চালক। সেই সময় আচমকাই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। হাসপাতালের সামনেই এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে আশপাশে থাকা বেশ কয়েক জন পথচারীও গুরুতর জখম হন। ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাস্তার পাশের কয়েকটি দোকানও। বিস্ফোরণের পর স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও দমকল বাহিনী। আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা ১০ জনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
কী কারণে অক্সিজেন সিলিন্ডারে বিস্ফোরণ ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। থারপারকারের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (SSP) আরিফ আজিজ জাফরি জানিয়েছেন, সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তাও পরীক্ষা করে দেখছেন তদন্তকারীরা।
পাকিস্তানে বাস উল্টে মৃত অন্তত ১১
অন্যদিকে, পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে আরও একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। করাচি থেকে ডেরা গাজি খানের উদ্দেশে যাচ্ছিল একটি যাত্রীবাহী বাস। রাজনপুরের কাছে জাতীয় সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে ডিভাইডারে ধাক্কা মারে বাসটি। তার পর সেটি উল্টে যায়। দুর্ঘটনায় অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৩০ জনেরও বেশি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের মধ্যে মহিলা ও শিশুও রয়েছে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় উদ্ধারকারী দল এবং পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। তাঁদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ। আহতদের চিকিৎসায় যাতে কোনওরকম ঘাটতি না থাকে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, চলতি অক্টোবরেই পাকিস্তানের পেশোয়ারে একটি বেসরকারি স্কুলের ছাদ ভেঙে প্রাণ হারিয়েছিলেন ৩০ জন। মৃতদের মধ্যে ২৯ জনই শিশু বলে জানা গিয়েছিল। একের পর এক দুর্ঘটনায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা এবং পরিকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।



