কারচুপি করে বিজেপিকে জেতানোর অভিযোগ, ‘ভোটগণনার ভিডিও হারিয়ে গিয়েছে’—সুপ্রিম কোর্টে বলল কমিশন!

কর্নাটকের শৃঙ্গেরী বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটগণনার ভিডিও কোথায়? ২০২৩ সালের রেকর্ড খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভিডিও পেশ না করলে বিরূপ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সতর্কতা দিয়েছে আদালত।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভোটগণনার ভিডিও রেকর্ডিং কোথায়, তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। ২০২৩ সালের কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনে শৃঙ্গেরী কেন্দ্রের গণনার ভিডিও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছে কমিশন। সেই বক্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করে কমিশনকে কড়া বার্তা দিয়েছে শীর্ষ আদালত। পরবর্তী শুনানির আগে ভিডিও রেকর্ডিং পেশ করতে না পারলে কমিশনের বিরুদ্ধে বিরূপ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিচারপতিরা।

শৃঙ্গেরী কেন্দ্রের ভোটগণনা ঘিরে মামলাটি করেছেন কংগ্রেস নেতা টিডি রাজগৌড় (T. D. Rajegowda)। তাঁর দাবি, ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী ডিএন জীবরাজকে ২০১ ভোটে হারিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ২০২৬ সালের মে মাসে ডাকযোগে আসা ভোট বা পোস্টাল ব্যালট পুনর্গণনার পর তাঁকে পরাজিত ঘোষণা করা হয়। পরিকল্পিত ভাবে তাঁর জয় কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রাজগৌড়ার। যদিও এই অভিযোগের নিষ্পত্তি এখনও হয়নি।

মামলার শুনানিতে রাজগৌড়ার পক্ষ থেকে ২০২৩ সালের মূল ভোটগণনার ভিডিও রেকর্ডিং, ২০২৬ সালে পোস্টাল ব্যালট পুনর্গণনার ভিডিও এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষকের রিপোর্ট পেশ করার আবেদন জানানো হয়। সেই অনুযায়ী নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কুমার (Justice Sanjay Kumar) এবং বিচারপতি সঞ্জীব সচদেবের (Justice Sanjiv Sachdeva) বেঞ্চ।

কিন্তু আদালতে কমিশনের আইনজীবী শেষাদ্রি নায়ডু জানান, ২০২৩ সালের ভোটগণনার ভিডিও রেকর্ডিং খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই বক্তব্যে সন্তুষ্ট হয়নি আদালত। নির্বাচন পরিচালনা এবং সংশ্লিষ্ট নথি সংরক্ষণ কমিশনের অন্যতম দায়িত্ব—সেই কথা মনে করিয়ে দিয়ে বিচারপতিরা প্রশ্ন তোলেন, কমিশন কী ভাবে নিজের রেকর্ড হারিয়ে ফেলতে পারে।

আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পরবর্তী শুনানির আগে সংশ্লিষ্ট রেকর্ড খুঁজে বের করে পেশ করতে হবে। শুধু নথি খোঁজার চেষ্টা চলছে, এই যুক্তি গ্রহণ করা হবে না বলেও জানানো হয়েছে। ভিডিও জমা দিতে না পারলে কমিশনের বিরুদ্ধে বিরূপ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে পরবর্তী শুনানির আগে নথি পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই মামলার সূত্রপাত ২০২৩ সালের নির্বাচনের ফল নিয়ে বিরোধ থেকে। রাজগৌড়ার জয়ের বিরুদ্ধে কর্নাটক হাই কোর্টের (Karnataka High Court) দ্বারস্থ হয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী ডিএন জীবরাজ। সেই মামলায় ২০২৬ সালের ৬ এপ্রিল হাই কোর্ট প্রথম গণনায় বাতিল হওয়া ২৭৯টি পোস্টাল ব্যালট পুনরায় যাচাইয়ের নির্দেশ দেয়। পরে পুনর্গণনা ঘিরে আপত্তি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন রাজগৌড়া।

রাজগৌড়ার অভিযোগ, হাই কোর্টের নির্দেশের সীমা অতিক্রম করে রিটার্নিং অফিসার শুধু বাতিল হওয়া ব্যালট নয়, আগে বৈধ বলে গণ্য হওয়া ব্যালটও পুনরায় পরীক্ষা করেন। তাঁর বক্তব্য, ২৭৯টি বাতিল ব্যালট যাচাইয়ের নির্দেশ থাকলেও ১,২৫১টি বৈধ ব্যালটও পুনরায় খতিয়ে দেখা হয়েছিল। ২০২৬ সালের ১১ মে সুপ্রিম কোর্ট এই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং জানায়, হাই কোর্টের নির্দেশের বাইরে গিয়ে পদক্ষেপ করা হয়ে থাকলে তা আইনসম্মত নয়।

মে মাসের গোড়ায় পুনর্গণনার পর রাজগৌড়ার পক্ষে পাওয়া ২৫৫টি ভোট অবৈধ বলে বাতিল করা হয়। অন্যদিকে, জীবরাজের প্রাপ্ত ভোটের সঙ্গে আরও দু’টি ভোট যোগ হয়। প্রথম গণনার ফলের সঙ্গে পরবর্তী গণনার হিসাব মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত ৫২ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে যান জীবরাজ। তাঁকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। রাজগৌড়া এই পুনর্গণনায় কারসাজির অভিযোগ তুলেছেন। জীবরাজ অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

মামলাটির পরবর্তী শুনানিতে ভোটগণনার ভিডিও রেকর্ডিং ও অন্যান্য নথি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ, পোস্টাল ব্যালটের বৈধতা, পুনর্গণনার পদ্ধতি এবং নির্বাচনী নথি সংরক্ষণের প্রশ্নের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এই বিরোধ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, পরবর্তী শুনানির আগে কমিশন সংশ্লিষ্ট রেকর্ড পেশ করতে পারে কি না, তার উপর মামলার পরবর্তী অগ্রগতি নির্ভর করবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

Advertisementspot_img

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর