লক্ষ্মীপুজোর সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে হাজির হলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার সন্ধ্যায় পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংহকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী। চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের আয়োজিত লক্ষ্মীপুজোয় যোগ দিয়ে নারকেল নাড়ুও খান তিনি। তবে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ঘিরে রাজনৈতিক তাৎপর্যের প্রশ্ন উঠতেই শুভেন্দুর বক্তব্য, তাঁর এই সফরের সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই।
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমন্ত্রণে লক্ষ্মীপুজোয় যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। সুদীপের স্ত্রী তথা চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতি বছর বাড়িতে লক্ষ্মীপুজোর আয়োজন করেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, নয়নার হাতে তৈরি দু’টি নারকেল নাড়ু খেয়েছেন তিনি।
সুদীপের বাড়িতে গিয়ে শুভেন্দু স্পষ্ট করে দেন, সেখানে তিনি মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রী হিসেবে নয়, আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবেই এসেছেন। তাঁর কথায়, যে বিজেপি তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করেছে, সেই দলের কোনও নেতা তাঁকে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বারা আক্রান্ত বলে জানাননি। পাশাপাশি সুদীপের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যাঁর একসঙ্গে প্রাতরাশ করার সম্পর্ক, তাঁর আমন্ত্রণে আসায় রাজনীতি খোঁজা উচিত নয়।
পুরভোটে বিজেপি ও এনসিপিআইয়ের সম্ভাব্য জোট নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অবশ্য কোনও মন্তব্য করতে চাননি শুভেন্দু। তিনি জানান, এ বিষয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং দলের রাজ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সুনীল বনসল বক্তব্য দেবেন।
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও মুখ্যমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তাঁদের দল এনসিপিআই জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের (এনডিএ) দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিক।
সুদীপের বাড়িতে শুভেন্দুর যাওয়া নিয়ে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। তাঁর বক্তব্য, সুদীপ বিজেপির কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। নিজের মুখরক্ষা করতেই তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে লক্ষ্মীপুজোয় আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন বলে দাবি সৌগতের। তাঁর মতে, শুভেন্দু গিয়ে সুদীপের মুখরক্ষা করেছেন।
সুদীপের আমন্ত্রণ অবশ্য একেবারে শেষ মুহূর্তে আসেনি। বেশ কিছু দিন আগেই তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে পুজোয় আসার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। শনিবার ফোনে বার্তা পাঠিয়ে সেই আমন্ত্রণের কথা ফের মনে করিয়ে দেন উত্তর কলকাতার সাংসদ। রবিবার মুখ্যমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে সুদীপ আরও জানান, ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি শুভেন্দুর সঙ্গে সংসদে কাজ করেছেন।
এই সাক্ষাতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও গুরুত্বপূর্ণ। তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত সুদীপ-সহ ২০ জন সাংসদ দল ছেড়ে এনসিপিআইয়ে যোগ দিয়েছেন এবং কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারকে সমর্থন জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে সংসদে এনডিএর সাংসদ সংখ্যা বেড়েছে। অন্যদিকে, দলত্যাগী সাংসদদের পদ খারিজের দাবিতে তৃণমূল লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার দ্বারস্থ হয়েছে।
লক্ষ্মীপুজোর আমন্ত্রণে শুভেন্দুর এই সফরকে তিনি ব্যক্তিগত সৌজন্য হিসেবেই ব্যাখ্যা করেছেন। কিন্তু সুদীপের দলবদল, এনডিএকে সমর্থন এবং দলত্যাগী সাংসদদের পদ খারিজের দাবি ঘিরে চলা রাজনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যে এই সাক্ষাৎ স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।



