তৃণমূলের অন্দরে চলা রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই ফের শিরোনামে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লিতে বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ ঘিরে জল্পনা যখন তুঙ্গে, তখনই প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মন্তব্যে নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল নেতৃত্বের সম্পর্কের সমীকরণ।
শনিবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখা যাওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় জোর জল্পনা। সেই আবহেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিক মন্তব্য ঘিরে তৃণমূলের অন্দরে বাড়তে শুরু করেছে অস্বস্তি।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, যদি সুদীপ সত্যিই দল ছেড়ে অন্য শিবিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, তবে তার পিছনে কোনও না কোনও বড় কারণ রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, অতীতের বিভিন্ন মামলার প্রসঙ্গ এবং রাজনৈতিক সুবিধার সমীকরণকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
তিনি আরও বলেন, অতীতে যখন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় আইনি জটিলতার মুখে পড়েছিলেন, তখন দলের বহু নেতা এবং আইনজীবীরা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই সময় তাঁর জামিনের জন্যও নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন কল্যাণ।
এখানেই থামেননি তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সুদীপের সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে কল্যাণ বলেন, দলনেত্রী দীর্ঘদিন ধরে সুদীপকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। দলের অন্য নেতাদের নানা অভিযোগও বহু ক্ষেত্রে গুরুত্ব পায়নি বলে তাঁর দাবি।
কল্যাণের অভিযোগ, উত্তর কলকাতার সাংগঠনিক রাজনীতিতে সুদীপের প্রভাব নিয়ে অতীতে বহু নেতা-কর্মী অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু দলনেত্রীর আস্থার কারণেই সেই সব অভিযোগ সামনে আসেনি।
একইসঙ্গে তিনি একটি নতুন প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। কল্যাণের দাবি, কিছুদিন আগে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন একটি গাড়ির আবেদন করেছিলেন। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সেই অনুরোধ পূরণ করা সম্ভব হয়নি বলে তাঁকে জানানো হয়েছিল।
তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কল্যাণ স্পষ্ট জানান, কে দল ছাড়ছেন বা কে অন্য শিবিরে যাচ্ছেন, তা নিয়ে তাঁরা বিচলিত নন। তাঁর মতে, শেষ কথা বলবে বাংলার মানুষই।
বিজেপিকেও কটাক্ষ করতে ভোলেননি তিনি। কল্যাণের অভিযোগ, বিরোধী শক্তিকে দুর্বল করার লক্ষ্যেই বিভিন্ন রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, গণতন্ত্রে শক্তিশালী বিরোধী দল থাকা অত্যন্ত জরুরি।
দিল্লির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ এবং তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে এই বিতর্ক আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।



