কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)-এর সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় (Rachna Banerjee) এবং শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)-এর মধ্যে প্রকাশ্য বাকযুদ্ধ আরও তীব্র হল। গত কয়েকদিন ধরে দলের সঙ্গে নিজের দূরত্ব নিয়ে রচনার একাধিক মন্তব্যের পর এবার কড়া ভাষায় পালটা আক্রমণ করলেন কল্যাণ।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, যদি সত্যিই রচনাকে শুধুমাত্র ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাহলে তিনি রাজনীতিতে যোগ দিয়েছিলেন কেন? তাঁর কথায়, “ওনাকে ব্যবহার করা হচ্ছে, তাহলে এলেন কেন? উনি কি বাচ্চা মেয়ে?”
রচনার অভিযোগ ছিল, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) তাঁর জনপ্রিয় মুখকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছেন। একইসঙ্গে তিনি দলের দুর্নীতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন।
এই অভিযোগের জবাবে কল্যাণ বলেন, ২০২৪ সালের আগে রাজ্যের বিভিন্ন দুর্নীতির মামলা এবং গ্রেপ্তারের ঘটনা সম্পর্কে রচনা অবগত ছিলেন না, এমন দাবি বিশ্বাসযোগ্য নয়। তাঁর কথায়, সবকিছু জেনেশুনেই যদি তিনি দলের মুখ হতে রাজি হয়ে থাকেন, তাহলে এখন সেই অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই।
এখানেই থামেননি শ্রীরামপুরের সাংসদ। তিনি দাবি করেন, রচনার স্বামীর ঠিকাদারির কাজের বিষয়ে সহযোগিতা চেয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। সেই কাজ না হওয়াতেই অভিনেত্রীর ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। যদিও এই দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ প্রকাশ্যে আনেননি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
রচনার “ফুটপাথ” মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে কল্যাণ উদাহরণ হিসেবে আরামবাগের সাংসদ মিতালি বাগ (Mitali Bag)-এর নাম উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, একজন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীকেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংসদ করেছেন। তাই শুধুমাত্র তারকা মুখের উপর দলের সাফল্য নির্ভর করে না।
এরপর ব্যক্তিগত আক্রমণের সুর আরও চড়ান কল্যাণ। তিনি বলেন, রচনার হাতে এখন কতগুলি সিনেমা রয়েছে, সেই প্রশ্ন তুলেই মন্তব্য করেন, “মা-কাকিমার চরিত্র ছাড়া এখন আর কেউ কাজ দেবে না।”
শুধু অভিনয় নয়, লোকসভায় রচনার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। কল্যাণের দাবি, সাংসদ হিসেবে রচনা যে প্রশ্নগুলি করেছেন, সেগুলি অন্যের অফিস থেকে তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও কটাক্ষ করে বলেন, উচ্চ মাধ্যমিক পাশ একজন মানুষের পক্ষে এত প্রশ্ন নিজে তৈরি করা সম্ভব কি না, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।
দলের বিরুদ্ধে সরব হওয়া নেতাদের উদ্দেশে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, এই ধরনের বিদ্রোহীরাই শেষ পর্যন্ত দলের ক্ষতি করছেন। তাঁর কথায়, “তারকারাই দলটাকে শেষ করে দিল।”
রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য এবং তার জেরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পালটা আক্রমণে তৃণমূলের অন্দরের মতবিরোধ আরও প্রকাশ্যে চলে এল। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন এই বিতর্কের পরবর্তী পর্বের দিকে।






