তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)-এর প্রতীক ও সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র হচ্ছে। নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)-র নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)-এর সঙ্গে বৈঠকে বসছে। দলের প্রতীক, তহবিল এবং সাংগঠনিক স্বীকৃতির দাবিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar)-এর কাছে একাধিক নথি জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে তারা।
রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, তৃণমূলের সাংগঠনিক নেতৃত্ব নিয়ে যে বিরোধ তৈরি হয়েছে, তার প্রথম আনুষ্ঠানিক আইনি লড়াই শুরু হতে চলেছে নির্বাচন কমিশনের দরজায়।
সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় ঋতব্রত শিবিরের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দফতরে গিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে। বৈঠকে তাঁরা নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে দাবি জানিয়ে দলের প্রতীক এবং তহবিলের অধিকার চাওয়ার পাশাপাশি সংগঠনের নিয়ন্ত্রণের দাবিও তুলে ধরবেন।
এর আগে ঋতব্রত শিবিরের পাঁচ বিধায়ক এবং নবগঠিত কমিটির সদস্যরা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (Chief Electoral Officer, West Bengal)-এর দফতরে গিয়ে তাঁদের তথাকথিত ‘বিশেষ অধিবেশন’-এর নথি জমা দিয়েছেন। সেই নথিতে দাবি করা হয়েছে, নতুন কর্মসমিতি গঠন করা হয়েছে এবং তারাই প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব করছেন।
সম্প্রতি কলকাতার একটি পাঁচতারা হোটেলে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-কে দলের চেয়ারপার্সন পদ থেকে সরিয়ে অরূপ রায় (Arup Roy)-কে নতুন চেয়ারপার্সন নির্বাচিত করা হয়েছে বলে দাবি করে ঋতব্রত শিবির। একই সঙ্গে ৩০ সদস্যের একটি নতুন কার্যকরী কমিটি গঠনের কথাও জানানো হয়।
ঋতব্রত শিবিরের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন আগের কর্মসমিতির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় সেটি আর বৈধ নয়। তাই নতুন কমিটিকেই স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। নির্বাচন কমিশনের কাছে এই যুক্তির পক্ষে বিশেষ অধিবেশনের কার্যবিবরণী বা ‘মিনিটস’ও জমা দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে, কালীঘাট (Kalighat) শিবির ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের কাছে আলাদা চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তৃণমূল কংগ্রেসের বৈধ চেয়ারপার্সন। পাশাপাশি দলের বর্তমান কার্যকরী কমিটির সদস্যদের তালিকাও কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
ফলে তৃণমূলের প্রতীক ও সাংগঠনিক অধিকার নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সামনে দুই পক্ষের পৃথক দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে পৌঁছে যাচ্ছে। এই বিরোধের নিষ্পত্তি কীভাবে হয়, তার উপরই নির্ভর করবে আগামী দিনে দলের প্রতীক ও সাংগঠনিক স্বীকৃতি সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ।






