ঋতব্রত-সন্দীপন এখনও তৃণমূলের বিধায়ক! বহিষ্কার স্থগিত করে বড় নির্দেশ আদালতের

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ আলিপুর আদালতের। ৩০ জুন পর্যন্ত তাঁদের তৃণমূলের সদস্য হিসেবেই গণ্য করতে হবে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে তৃণমূল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত আপাতত কার্যকর করা যাবে না। আলিপুর দেওয়ানি আদালতের নির্দেশে নতুন মোড় নিয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক সংঘাত। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আপাতত তাঁদের তৃণমূলের সদস্য হিসেবেই গণ্য করতে হবে।

বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা পদ নিয়ে হাই কোর্টে কোনও অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ না এলেও পরে সামনে আসে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। জানা যায়, গত সোমবারই আলিপুর আদালত ঋতব্রত এবং সন্দীপনকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের উপর অস্থায়ী স্থগিতাদেশ জারি করেছে।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা যাবে না। শুধু তাই নয়, ওই বহিষ্কারের ভিত্তিতে কোনও প্রশাসনিক বা সাংগঠনিক পদক্ষেপও নেওয়া যাবে না।

নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, সংবাদমাধ্যমে তাঁদের ‘বহিষ্কৃত’ বলে প্রচার করা যাবে না। পাশাপাশি বিধানসভা, সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ বা দলীয় সংগঠনের কাছেও বহিষ্কারের তথ্য পাঠানো থেকে বিরত থাকতে হবে।

ঋতব্রত-সন্দীপন এখনও তৃণমূলের বিধায়ক! বহিষ্কার স্থগিত করে বড় নির্দেশ আদালতের
ঋতব্রত-সন্দীপন এখনও তৃণমূলের বিধায়ক! বহিষ্কার স্থগিত করে বড় নির্দেশ আদালতের

ঋতব্রত ও সন্দীপনের দাবি, গত ১ জুন তাঁদের বহিষ্কারের নোটিস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার আগে কোনও শো-কজ নোটিস, নির্দিষ্ট অভিযোগপত্র বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি কোনও দলীয় তদন্তও হয়নি বলে আদালতে দাবি করেন তাঁরা।

দুই বিধায়কের বক্তব্য, কিছু নথি এবং স্বাক্ষরের সত্যতা নিয়ে তাঁরা প্রশ্ন তুলেছিলেন। সেই বিষয়ে বিধানসভার স্পিকারের কাছে অভিযোগও দায়ের করা হয়েছিল। পরে সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়। তাঁদের অভিযোগ, সেই ঘটনার পরপরই প্রতিহিংসার বশে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আদালতও প্রাথমিকভাবে সেই যুক্তিকে গুরুত্ব দিয়েছে। বিচারকের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, বহিষ্কারের আগে প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতি মানা হয়েছে বলে কোনও প্রমাণ আদালতের সামনে নেই। শো-কজ নোটিস, শুনানি বা তদন্তের নথি— কোনওটিই উপস্থাপন করা হয়নি।

বিচারক আরও উল্লেখ করেছেন, অভিযোগ তোলার পরপরই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে। ফলে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগে বর্তমান পরিস্থিতি বজায় রাখা প্রয়োজন।

আদালতের মতে, ঋতব্রত ও সন্দীপন দু’জনেই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। তাঁদের বহিষ্কৃত বলে প্রচার চলতে থাকলে রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ও জনসমক্ষে সম্মানহানি হতে পারে, যার ক্ষতি পরে পূরণ করা সম্ভব নয়।

এদিকে বিরোধী দলনেতা পদ নিয়েও রাজনৈতিক লড়াই অব্যাহত। বিধানসভা নির্বাচনে ৮০টি আসন জেতার পর তৃণমূলের পক্ষ থেকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম বিরোধী দলনেতা হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে পরে স্পিকার রথীন্দ্র বসু ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন।

স্পিকারের সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করেন শোভনদেব। কিন্তু বৃহস্পতিবার বিচারপতি কৃষ্ণ রাও অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকার করেন এবং ২৮ জুলাই পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন। সব পক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে আদালতের স্থগিতাদেশ এবং হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ— দুই মিলিয়ে আপাতত রাজনৈতিকভাবে স্বস্তিতে ঋতব্রত-সন্দীপন শিবির। ফলে তৃণমূলের অন্দরের সংঘাত এবং বিরোধী দলনেতা পদ ঘিরে আইনি লড়াই আগামী দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর