বিহারের বেগুসরাই জেলায় এক গৃহবধূর উপর নৃশংস নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, গভীর রাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে তাঁকে গণধর্ষণ করা হয়। পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসার সময় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, ঘটনাটি ঘটেছে ১১ জুন রাতে। অভিযোগ অনুযায়ী, বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় কয়েকজন দুষ্কৃতী তাঁদের বাড়িতে ঢুকে পড়ে। প্রথমে মহিলার স্বামীকে আটকে রাখা হয়। এরপর মহিলাকে জোর করে নিয়ে যাওয়া হয় একটি নির্জন স্থানে, যেখানে তাঁর উপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ।
পরিবারের সদস্যরা পরে তাঁকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হলেও শারীরিক অসুস্থতা ও যন্ত্রণা বাড়তে থাকায় কয়েক দিন পর ফের হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।
চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়। বিভিন্ন মেডিক্যাল পরীক্ষার পর অস্ত্রোপচার করে তাঁর শরীর থেকে কিছু বিদেশি বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। বিষয়টি সামনে আসতেই মামলার গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।
ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। বেগুসরাই সদর মহকুমা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, চিকিৎসার সময় উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তদন্ত চালানো হচ্ছে এবং সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পরপরই পুলিশকে জানানো হলেও প্রথমদিকে যথাযথ পদক্ষেপ করা হয়নি। তাঁদের দাবি, অভিযুক্তদের পরিচয় সম্পর্কে আগেই তথ্য দেওয়া হয়েছিল। সেই অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তদের খোঁজে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চলছে। এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তদন্তকারীরা প্রত্যক্ষদর্শী, চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি এবং ফরেনসিক রিপোর্টের ভিত্তিতে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র সামনে আনার চেষ্টা করছেন।
বেগুসরাইয়ের এই ঘটনা ফের একবার নারী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও। এখন তদন্তের অগ্রগতির দিকেই নজর প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের।



