পশ্চিমবঙ্গ দিবসের মঞ্চ থেকে কর্মসংস্থান, সরকারি প্রকল্প এবং উন্নয়ন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। হুগলির তারকেশ্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তিনি দাবি করেন, নতুন সরকার রাজ্যের মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে কাজ শুরু করেছে। বিশেষ করে চাকরির ক্ষেত্রে বয়সে ছাড়ের প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরে তিনি যুবসমাজের উদ্দেশে ইতিবাচক বার্তা দেন।
শনিবার বিকেলে তারকেশ্বরের সভাস্থলে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী প্রথমেই পশ্চিমবঙ্গ দিবসের শুভেচ্ছা জানান। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, “পরিবর্তন ভাল লাগছে তো?” সেই সঙ্গে নতুন সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোটের আগে বিজেপি বাংলার মানুষের কাছে যে প্রতিশ্রুতিগুলি দিয়েছিল, তার বাস্তবায়ন ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। তিনি দাবি করেন, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা এখন রাজ্যের মানুষ পাচ্ছেন এবং অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় মহিলাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
চাকরির প্রসঙ্গে নরেন্দ্র মোদী বিশেষভাবে বয়সে ছাড়ের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনের আগে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বয়সসীমায় ছাড় দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই সেই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন এবং প্রশাসনিক স্তরে কাজও শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আয়োজিত জলকল্যাণ শিবিরের মাধ্যমে কেন্দ্র ও রাজ্যের একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে সরকারি পরিষেবার পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা এবং দুর্নীতির প্রসঙ্গও উঠে আসে প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতায়। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যে অরাজকতা ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল, তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। জনগণের অর্থ আত্মসাৎ এবং কাটমানি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
একইসঙ্গে উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রেল, কৃষি এবং মৎস্যক্ষেত্রের উন্নয়নের জন্য এদিন ৮২০ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন হয়েছে। এই প্রকল্পগুলি রাজ্যের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পশ্চিমবঙ্গ দিবসের মঞ্চ থেকে দেওয়া এই বার্তায় উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ফলে চাকরি ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আশায় থাকা বহু মানুষের কাছে এই বক্তব্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।



