রাজ্যে ভাঙচুর, অশান্তি এবং সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিতে চলেছে সরকার। সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার ঘটনায় কড়া ব্যবস্থা নিতে বিধানসভায় আনা হতে পারে একটি নতুন বিল। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি কন্ট্রোল অ্যান্ড অ্যান্টি সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
প্রস্তাবিত এই বিলের মূল লক্ষ্য শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নয়, বরং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এমন বিভিন্ন সমাজবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী আইনি কাঠামো তৈরি করা। সংগঠিত অপরাধ, প্ররোচনামূলক কার্যকলাপ এবং জনসম্পত্তি ধ্বংসের মতো ঘটনাগুলিকে বিশেষভাবে নজরে রাখা হবে বলে জানা গিয়েছে।
সূত্রের খবর, নতুন এই আইনে পুলিশ এবং প্রশাসনকে আগের তুলনায় আরও বেশি ক্ষমতা দেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে সম্ভাব্য অপরাধ বা অশান্তি রুখতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ক্ষমতা বৃদ্ধি করার ভাবনা রয়েছে। প্রিভেনটিভ ডিটেনশন বা প্রতিরোধমূলক আটক সংক্রান্ত নতুন বিধানও যুক্ত হতে পারে বলে জল্পনা।
বর্তমানে কার্যকর থাকা ১৯৭২ সালের ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল মেইনটেন্যান্স অফ পাবলিক অর্ডার অ্যাক্ট’-এর তুলনায় নতুন বিলের পরিধি অনেকটাই বিস্তৃত হতে পারে। সমাজবিরোধী কার্যকলাপের সংজ্ঞাও আরও বিস্তারিতভাবে নির্ধারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযুক্তদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের কড়া ব্যবস্থা রাখা হতে পারে। প্রস্তাব অনুযায়ী, অপরাধ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের সম্পত্তি বিক্রি করেও ক্ষয়ক্ষতির টাকা আদায় করা যেতে পারে।
শুধু সরাসরি ভাঙচুরে জড়িত ব্যক্তিরাই নন, অশান্তি বা ভাঙচুরে উসকানি দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও সমান শাস্তির বিধান রাখা হতে পারে। ফলে পরিকল্পনাকারী এবং প্ররোচনাদাতাদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রশাসনিক মহলের খবর, রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরে ইতিমধ্যেই এই বিলের খসড়া তৈরির কাজ চলছে। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়টি আলোচনা হতে পারে এবং পরবর্তীতে বিধানসভায় বিল আকারে পেশ করা হতে পারে।
একইসঙ্গে পুরনো আইনেও সংশোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৩ সালের পর প্রথমবার ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল মেইনটেন্যান্স অফ পাবলিক অর্ডার অ্যাক্ট, ১৯৭২’-এ একাধিক পরিবর্তনের প্রস্তাব আনা হতে পারে। নতুন বিল এবং সংশোধনী— দুই মিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা সংক্রান্ত ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটতে চলেছে রাজ্য সরকার।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ইতিমধ্যেই এই প্রস্তাবিত আইন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিলটি চূড়ান্তভাবে পাশ হলে ভাঙচুর, অশান্তি এবং সংগঠিত অপরাধ মোকাবিলায় প্রশাসনের হাতে আরও শক্তিশালী আইনি অস্ত্র চলে আসবে বলেই মনে করা হচ্ছে।



