সোমবার সকালে রাজনৈতিক মহল এবং টলিপাড়ায় চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে একটি বিশেষ সাক্ষাৎ। টলিউডের ‘ইন্ডাস্ট্রি’ নামে পরিচিত প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি সশরীরে পৌঁছে যান বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের বাসভবনে। দু’জনের এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক ঘিরে শুরু হয় জল্পনা, যদিও পরে জানা যায়, মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল সংস্কৃতি, সিনেমা এবং বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের ভবিষ্যৎ।
সূত্রের খবর, দীর্ঘ সময় ধরে বাংলা সিনেমা ও থিয়েটার জগতের বর্তমান পরিস্থিতি, শিল্পের সম্ভাবনা এবং সাংস্কৃতিক পরিকাঠামোর উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেন প্রসেনজিৎ ও শমীক ভট্টাচার্য। রাজনৈতিক আলোচনা নয়, বরং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রের বিভিন্ন বিষয়ই ছিল এই সাক্ষাতের মূল বিষয়বস্তু।
বর্তমানে নিজের নতুন ছবি ‘অনেকদিন পর’-এর প্রযোজক হিসেবে ব্যস্ত রয়েছেন প্রসেনজিৎ। সৌরভ পালোধী পরিচালিত এই ছবিটি আগামী ২৬ জুন মুক্তি পাওয়ার কথা। ছবির মুক্তির আগে রাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বকে প্রিমিয়ার শো-তে আমন্ত্রণ জানানোর উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।
সেই সূত্রেই শমীক ভট্টাচার্যকে ব্যক্তিগতভাবে ছবির বিশেষ প্রদর্শনীতে আমন্ত্রণ জানাতে তাঁর বাড়িতে যান প্রসেনজিৎ। সাক্ষাতের সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ছবির পরিচালক সৌরভ পালোধী। এছাড়াও ছিলেন অভিনেতা ও বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ।
এই সাক্ষাতের কয়েকটি ছবি সমাজমাধ্যমে শেয়ার করেন রুদ্রনীল ঘোষ। ছবি প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এটি সম্পূর্ণ সৌজন্যমূলক এবং সাংস্কৃতিক পরিসরের একটি সাক্ষাৎ।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগেও প্রসেনজিৎ রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে বিভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরের নেতাদের সঙ্গে দেখা করেছেন। সম্প্রতি তিনি বিমান বসুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে একই ছবির বিশেষ প্রদর্শনীতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সেই পদক্ষেপকেও সংস্কৃতির মাধ্যমে বিভিন্ন মতাদর্শের মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ার প্রয়াস হিসেবে দেখা হয়েছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলা সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্র জগতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃত্বের এই ধরনের সৌজন্য সাক্ষাৎ গণতান্ত্রিক পরিবেশের ইতিবাচক দিক তুলে ধরে। বিশেষ করে সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মতাদর্শের মানুষের একত্রিত হওয়ার বার্তাও এতে স্পষ্ট।
সব মিলিয়ে শমীক ভট্টাচার্যের বাড়িতে প্রসেনজিতের এই সফর রাজনৈতিক জল্পনার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্র জগতের পারস্পরিক সংযোগের কারণেই। আর নতুন ছবি ‘অনেকদিন পর’-এর মুক্তির আগে এই সাক্ষাৎ এখন টলিপাড়ার অন্যতম আলোচ্য বিষয়।



