রাজনীতি ও অভিনয় একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে ক্ষতি হয়েছে কেরিয়ারের। তৃণমূল ছাড়ার কারণ, টলিউডের বর্তমান অবস্থা এবং নতুন সরকারের প্রতি প্রত্যাশা নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন অভিনেত্রী দেবশ্রী রায়।
বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী দেবশ্রী রায় দীর্ঘ অভিনয়জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে এক গুরুত্বপূর্ণ উপলব্ধির কথা তুলে ধরলেন। তাঁর মতে, রাজনীতি এবং অভিনয়— দুই ক্ষেত্রেই সমানভাবে সফল হতে গেলে বিপুল সময় ও মনোযোগ প্রয়োজন। কিন্তু একসঙ্গে দু’টি দায়িত্ব সামলাতে গেলে কোনও না কোনও ক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর সেই অভিজ্ঞতার সাক্ষী তিনি নিজেই।
১৯৬৬ সালে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় জগতে পা রাখেন দেবশ্রী রায়। পরবর্তী সময়ে বাংলা সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় নায়িকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের হাত ধরে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন তিনি এবং রায়দিঘি কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালেও পুনর্নির্বাচিত হয়ে টানা দুই মেয়াদ বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তবে রাজনৈতিক ব্যস্ততার কারণে ধীরে ধীরে অভিনয়জগৎ থেকে দূরে সরে যেতে হয় তাঁকে। সেই প্রসঙ্গেই দেবশ্রী বলেন, “আমারই তো হয়েছিল। রাজনীতি করতে গিয়ে অভিনয়ের দিকটা ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সময়ের সঙ্গে বুঝেছি, রাজনীতি করতে হলে সেটাতেই মন দিতে হয়। আবার অভিনয় করতে হলে অভিনয়ের প্রতিই সম্পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া দরকার।”
অভিনেত্রীর মতে, তিনি রাজনীতিতে বেশি সময় ও গুরুত্ব দেওয়ায় তাঁর অভিনয়জীবনে তার প্রভাব পড়েছিল। একই সঙ্গে তিনি বলেন, টলিউডের অনেক পরিচিত মুখকেও তিনি রাজনীতিতে যোগ দিতে দেখেছেন। কিন্তু কেন এত মানুষ একসঙ্গে রাজনীতির দিকে ঝুঁকেছিলেন, তা এখনও তাঁর কাছে স্পষ্ট নয়।
বাংলা চলচ্চিত্র শিল্প নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেবশ্রী। তাঁর কথায়, গত ১৫ বছরে বাংলা চলচ্চিত্র জগত অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে সৎ এবং দক্ষ মানুষের এগিয়ে আসা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
রাজনীতি থেকে সরে আসার কারণ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী জানান, তিনি হতাশা এবং বিরক্তি থেকেই দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে প্রার্থী না করায় দলের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। পরে একই বছর তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে দেন।
দেবশ্রীর দাবি, গত কয়েক বছরে রাজ্যের যে পরিস্থিতি তিনি দেখেছেন, তা তাঁকে হতাশ করেছে। তিনি বলেন, “আমি দল করেছি, কিন্তু অনেক বিষয়ে বলেও কোনও লাভ হয়নি। এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যে, আমি হতাশ হয়ে দল ছেড়েছি।”
তাঁর মতে, কোনও প্রতিষ্ঠান বা ব্যবস্থায় অযোগ্য ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসানো হলে সমস্যা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। যদিও রাজনৈতিক জীবনের নানা বিতর্কের মধ্যেও তিনি কখনও ‘ব্যান’ সংস্কৃতি বা কোনও বড় বিতর্কের মুখে পড়েননি বলে উল্লেখ করেছেন।
নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অবশ্য আশাবাদী দেবশ্রী রায়। তিনি মনে করেন, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ এবং পাপিয়া অধিকারীর মতো শিল্পী-রাজনীতিকেরা বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা নিতে পারেন।
সব মিলিয়ে রাজনীতি, অভিনয় এবং বাংলা চলচ্চিত্র জগতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দেবশ্রী রায়ের এই অকপট মন্তব্য নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।



