নতুন কমিটিতে একসঙ্গে দেব-হিরণ, ‘সৌজন্যের রাজনীতি শিখুন!’ খোঁচা হিরণের

টলিউডের উন্নয়নে নতুন উপদেষ্টা কমিটি গঠন করল রাজ্য সরকার। দেব ও হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের একসঙ্গে থাকা এবং ‘সৌজন্যের রাজনীতি’ মন্তব্য ঘিরে বাড়ছে জল্পনা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পকে ঘিরে দীর্ঘদিনের অস্থিরতার আবহে এবার নতুন উপদেষ্টা কমিটি গঠন করল রাজ্য সরকার। টলিউডের সার্বিক উন্নয়ন, শিল্পের সমস্যা সমাধান এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তৈরির লক্ষ্যে গঠিত এই কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ ও পেশাগত ক্ষেত্রের একাধিক পরিচিত মুখ। আর সেই তালিকায় একসঙ্গে নাম থাকায় বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন অভিনেতা-সাংসদ দেব এবং বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়।

রাজনৈতিক পালাবদলের পর বাংলা চলচ্চিত্র জগতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। শিল্পের নানা সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে সম্প্রতি নবান্নে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকের সুপারিশের ভিত্তিতেই নতুন উপদেষ্টা কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে।

নতুন কমিটিতে রয়েছেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, দেব, যিশু সেনগুপ্ত, রুদ্রনীল ঘোষ, হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায়, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারী, প্রযোজক মহেন্দ্র সোনি, পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়-সহ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন জগতের একাধিক পরিচিত ব্যক্তিত্ব। পাশাপাশি প্রশাসনিক স্তর থেকেও প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়েছে।

কমিটি ঘোষণার পরই রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে দেব ও হিরণের একসঙ্গে কাজ করার বিষয়টি। কারণ, অতীতে রাজনৈতিক ময়দানে দু’জনকে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করতে দেখা গিয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ঘাটাল কেন্দ্রের লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছিলেন দুই তারকা।

এই আবহেই হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্য নতুন করে জল্পনা বাড়িয়েছে। তিনি বলেন, কমিটিতে এমন অনেকেই রয়েছেন যাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান ভিন্ন হলেও উন্নয়নের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি তিনি “সৌজন্যের রাজনীতি” শেখার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর এই মন্তব্য ঠিক কাকে উদ্দেশ্য করে করা, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই দেবকে রাজনীতির ময়দানে তুলনামূলক সংযত ও সৌজন্যপূর্ণ মুখ হিসেবে দেখা হয়। বিরোধী মতের শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করা থেকে শুরু করে প্রকাশ্য রাজনৈতিক ভাষণে ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়ানোর প্রবণতা— এই ভাবমূর্তি তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।

অন্যদিকে, হিরণও বর্তমানে বিজেপির অন্যতম পরিচিত মুখ হিসেবে রাজনৈতিক পরিসরে সক্রিয়। বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি টলিউডের বিভিন্ন বিষয়েও তিনি সরব। ফলে নতুন কমিটিতে তাঁদের একসঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনা স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল তৈরি করেছে।

বাংলা চলচ্চিত্র শিল্প বর্তমানে প্রযোজনা, প্রদর্শন, কর্মসংস্থান এবং প্রযুক্তিগত আধুনিকীকরণ-সহ একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। সেই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে শিল্পের স্বার্থে এই কমিটি কতটা কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে, সেটাই এখন দেখার।

টলিউডের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন এবং শিল্পের পুনর্গঠনের লক্ষ্যে গঠিত এই উপদেষ্টা কমিটি আগামী দিনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, সেদিকেই নজর থাকবে চলচ্চিত্র মহল থেকে রাজনৈতিক অঙ্গন— সর্বত্র।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর