জোকা-এসপ্ল্যানেড মেট্রো কবে চালু? দিনক্ষণ জানালেন রেলমন্ত্রী, বড় অগ্রগতি পার্পল লাইনে

জোকা-এসপ্ল্যানেড পার্পল লাইনে ২০২৯ সালে যাত্রী পরিষেবা চালুর লক্ষ্যমাত্রা। খিদিরপুর থেকে ভিক্টোরিয়া পর্যন্ত টানেলিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় শেষ, নভেম্বর থেকে ফের কাজ শুরু করবে টিবিএম।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

কলকাতার মেট্রো মানচিত্রে আরও এক বড় পরিবর্তনের অপেক্ষা। জোকা থেকে এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত পার্পল লাইনে ২০২৯ সালে যাত্রী পরিষেবা চালুর লক্ষ্যমাত্রা জানানো হয়েছে। তার আগে খিদিরপুর থেকে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল পর্যন্ত জোড়া সুড়ঙ্গ নির্মাণের কাজে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। টানেল বোরিং মেশিন ‘দুর্গা’ ও ‘দিব্যা’র মাধ্যমে চলা কাজের একটি বড় ধাপ শেষ হওয়ায় জোকা-ধর্মতলা মেট্রো প্রকল্প নিয়ে নতুন করে আশার আলো দেখছেন যাত্রীরা।

নির্মীয়মাণ ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল মেট্রো স্টেশনে পৌঁছে গিয়েছে টানেল বোরিং মেশিন ‘দিব্যা’। এর আগে প্রথম সুড়ঙ্গের কাজ শেষ করে ‘দুর্গা’ ভিক্টোরিয়া স্টেশনে ব্রেকথ্রু সম্পন্ন করেছিল। ফলে জোকা-ধর্মতলা পার্পল লাইনের টানেল নির্মাণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যায় অতিক্রম করেছে কলকাতা মেট্রো।

এই অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw)। তাঁর পোস্ট থেকেই ২০২৯ সালে জোকা থেকে এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত যাত্রী পরিষেবা চালুর লক্ষ্যমাত্রার বিষয়টি সামনে এসেছে। অর্থাৎ কাজের গতি বজায় থাকলে আরও কয়েক বছরের মধ্যেই দক্ষিণ কলকাতা থেকে শহরের কেন্দ্রস্থলে সরাসরি মেট্রো যোগাযোগ তৈরি হতে পারে।

পার্পল লাইনের এই অংশের নির্মাণকাজ অত্যন্ত জটিল। শহরের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার নীচ দিয়ে সুড়ঙ্গ তৈরি করতে হচ্ছে। ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকার নীচ দিয়ে টানেল তৈরির কারণে প্রকল্পের কাজেও একাধিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সেই জায়গায় টিবিএম ‘দুর্গা’ ও ‘দিব্যা’র সাফল্যকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ।

দুটি টানেল বোরিং মেশিনই আপাতত ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল এলাকায় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের মধ্যে থাকবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নভেম্বর থেকে ফের পার্ক স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে মেশিন দুটিকে। অর্থাৎ ভিক্টোরিয়া পর্যন্ত পৌঁছনোর পরও টানেলিংয়ের পরবর্তী ধাপের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যাচ্ছে।

প্রথম টানেল বোরিং মেশিন ‘দুর্গা’ প্রায় এক বছর আগে সুড়ঙ্গ খোঁড়ার কাজ শুরু করেছিল। গত মাসে সেটি ভিক্টোরিয়ার মাটির নীচের স্টেশনে পৌঁছয়। পরে শুক্রবার মাটির নীচ থেকে বাইরে বেরিয়ে আসে মেশিনটি। সেই সময়ই প্রথম টানেলের কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিক ভাবে সামনে আসে।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ ‘দুর্গা’ ভিক্টোরিয়া মেট্রো স্টেশনে সফল ভাবে ব্রেকথ্রু করে। গুরুত্বপূর্ণ এই মুহূর্তে উপস্থিত ছিলেন মেট্রো রেলের জেনারেল ম্যানেজার প্রেম সাগর গুপ্ত (Prem Sagar Gupta), নেপালের কনসাল জেনারেল, কলকাতা পুরসভার কমিশনার, হাওড়ার পুলিশ কমিশনার-সহ মেট্রো রেল, রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (RVNL), এলঅ্যান্ডটি এবং প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থার আধিকারিকরা।

এই সুড়ঙ্গ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালের ১০ জুলাই খিদিরপুর থেকে ভিক্টোরিয়া স্টেশনের দিকে। প্রায় এক বছর ধরে মাটির নীচে কাজ করার পর ‘দুর্গা’র ব্রেকথ্রু প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় সম্পূর্ণ করেছে। এবার দ্বিতীয় টানেল এবং পরবর্তী অংশের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই লক্ষ্য।

জোকা থেকে এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত পার্পল লাইন চালু হলে দক্ষিণ কলকাতার সঙ্গে শহরের কেন্দ্রীয় অংশের যোগাযোগ অনেকটাই সহজ হবে। বিশেষ করে জোকা, ঠাকুরপুকুর, বেহালা, তারাতলা, মাঝেরহাট, খিদিরপুর, ভিক্টোরিয়া এবং এসপ্ল্যানেডের মধ্যে দ্রুত গণপরিবহণের নতুন পথ খুলে যাবে। তবে ২০২৯ সালের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়িত করতে বাকি নির্মাণকাজও নির্ধারিত সময়ে শেষ করা গুরুত্বপূর্ণ।

এখন তাই নজর টানেলিংয়ের পরবর্তী ধাপের দিকে। ‘দুর্গা’ ও ‘দিব্যা’ নভেম্বর থেকে ফের কাজে নামলে পার্পল লাইনের নির্মাণে আরও গতি আসবে বলে আশা। রেলমন্ত্রীর দেওয়া ২০২৯ সালের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কাজ এগোলে, কয়েক বছরের মধ্যেই জোকা থেকে এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত মেট্রোয় যাতায়াতের স্বপ্ন বাস্তব হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন