রাজ্যে ফের বড় নিয়োগের প্রস্তুতি। পুরসভা এবং সমবায় পরিষেবায় নিয়োগের দায়িত্ব এবার পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (PSC) হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে পিএসসির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন আমলা অনিল বর্মা জানান, বিভিন্ন দফতরে প্রায় ৮,০০৬টি শূন্যপদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি খুব শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা এবং দীর্ঘসূত্রতা কমাতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানানো হয়েছে।
গত ৩০ জুলাই রাজ্যের বিভিন্ন নিয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সেই বৈঠকেই রাজ্যের নিয়োগ ব্যবস্থায় একাধিক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়। তারই অংশ হিসেবে পুরসভা ও সমবায় পরিষেবার নিয়োগের দায়িত্ব পিএসসিকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সেই সিদ্ধান্তের বিষয়টি স্পষ্ট করেন পিএসসি চেয়ারম্যান অনিল বর্মা (Anil Verma)। তাঁর বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী এবার থেকে পুরসভা এবং কো-অপারেটিভ সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়াও পিএসসি দেখভাল করবে। সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পিএসসির তরফে ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। ফলে নিয়োগপ্রার্থীদের নজর এখন কমিশনের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তির দিকে। কোন দফতরে কত পদ রয়েছে, কোন পদে কী যোগ্যতা প্রয়োজন এবং আবেদন করার সময়সীমা কী হবে—সেগুলি বিস্তারিত ভাবে পরবর্তী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হবে।
নতুন নিয়োগ কাঠামোয় পরীক্ষার ফল প্রকাশ নিয়েও বড় পরিবর্তনের কথা জানানো হয়েছে। চাকরিপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, পরীক্ষা হয়ে গেলেও ফল প্রকাশে অস্বাভাবিক দেরি হয়। সেই সমস্যার সমাধানে এবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
অনিল বর্মা জানিয়েছেন, আগামী দিনে কোনও পরীক্ষার ফল দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রাখা হবে না। যে পরীক্ষাগুলি ইতিমধ্যেই বাকি রয়েছে, সেগুলিও দ্রুত সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পিএসসির বার্ষিক পরীক্ষার ক্যালেন্ডার যাতে নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে চলে, সেটিও নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
রাজ্যের নতুন নিয়োগ ব্যবস্থায় পিএসসিকে আরও বেশি দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তকে প্রশাসনিক মহলে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে পুরসভা ও সমবায়ের মতো ক্ষেত্রে নিয়োগ প্রক্রিয়া একই কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার আওতায় এলে পরীক্ষার পদ্ধতি, ফল প্রকাশ এবং নিয়োগের সময়সীমা নিয়ে আরও নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি হতে পারে।
নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগের আবহে পিএসসির উপর বাড়তি দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টিও রাজনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ এবং দুর্নীতিমুক্ত করাই মূল লক্ষ্য। মুখ্যমন্ত্রীর তরফে পিএসসি চেয়ারম্যান অনিল বর্মার নেতৃত্ব নিয়েও আস্থা প্রকাশ করা হয়েছে।
এখন মূল নজর ৮,০০৬টি শূন্যপদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির দিকে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে কোন কোন দফতর ও পদে নিয়োগ হবে, পরীক্ষার ধরন কী এবং আবেদন প্রক্রিয়া কবে শুরু হচ্ছে। ফলে সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নেওয়া রাজ্যের হাজার হাজার যুবক-যুবতীর কাছে পিএসসির পরবর্তী ঘোষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।



