চলতি অর্থবর্ষ শেষ হওয়ার আগেই রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরে ১ লক্ষ কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। অক্টোবর থেকে মার্চের মধ্যে ধাপে ধাপে নিয়োগ প্রক্রিয়া এগোনোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর।
রাজ্য সরকারের ৫৪টি দফতরে এই নিয়োগ হবে। দফতরের শূন্যপদ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়োগের সংখ্যা ঠিক করা হবে। কয়েকটি দফতরে নিয়োগের সংখ্যা ৭ হাজার থেকে ১৫ হাজারের মধ্যে হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
নিয়োগের তালিকায় রয়েছে কলকাতা পুলিশ, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এবং স্কুলশিক্ষা দফতর। কলকাতা পুলিশে ৪ হাজার এবং পশ্চিমবঙ্গ পুলিশে ১২ হাজার কর্মী নিয়োগের কথা জানানো হয়েছে।
স্কুলশিক্ষা দফতরে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী মিলিয়ে প্রায় ৩৪ হাজার নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ, শিক্ষা এবং পুলিশ—দুই ক্ষেত্রেই বড় সংখ্যায় নিয়োগ হতে চলেছে।
চলতি অর্থবর্ষের শেষ পাঁচ মাসে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গতি আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর। কোন দফতরে কত শূন্যপদ রয়েছে, তা দেখে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলি নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাবে।
সরকারি চাকরিতে ১ লক্ষ নিয়োগের ঘোষণা অবশ্য রাজ্য বাজেটেই করা হয়েছিল। জুন মাসে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে ১ লক্ষ শূন্যপদে নিয়োগের কথা জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। বাজেটে শিক্ষাক্ষেত্রে ৫০ হাজার এবং পুলিশ বিভাগে ২০ হাজার নিয়োগের কথা বলা হয়েছিল।
এর পাশাপাশি বুধবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। সংবিধান প্রণেতা ড. বি আর অম্বেডকরের নামে বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এর জন্য বিধানসভায় বিল আনা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়টি কোথায় তৈরি হবে, কতটা পরিকাঠামো থাকবে বা কবে থেকে পঠনপাঠন শুরু হবে, সে বিষয়ে এ দিনের বৈঠকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
রাজ্যে পৃথক আয়ুষ দফতর তৈরির প্রস্তাবেও অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। আয়ুর্বেদ, যোগ, ইউনানি, সিদ্ধ এবং হোমিয়োপ্যাথির মতো ভারতীয় চিকিৎসা পদ্ধতিগুলিকে একটি পৃথক প্রশাসনিক কাঠামোর অধীনে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে পুলিশ নিয়োগ নিয়ে সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, মামলা চলার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে রয়েছে। তাঁর বক্তব্য ছিল, আইনি জটিলতা কাটলে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশে ১২ হাজার এবং কলকাতা পুলিশে ৪ হাজার নিয়োগের নিয়োগপত্র দেওয়া হবে।
বুধবারের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে আগামী ছয় মাসে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দফতরে বড় সংখ্যায় নতুন নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে কোন দফতরে কত পদে নিয়োগ হবে এবং প্রতিটি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি কবে প্রকাশিত হবে, তা দফতরভিত্তিক ভাবে জানানো হবে।



