নয়াদিল্লি, ২৩ সেপ্টেম্বর: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR (Special Intensive Revision) ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরের মতপার্থক্যের খবর প্রকাশ্যে আসার পর এবার মুখ খুললেন প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশি (S Y Quraishi)। তাঁর বক্তব্য, কমিশনের সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধ থাকলে আইন অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠের মতেই সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা। সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করা হয়ে থাকলে, সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
বুধবার প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, SIR এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে বর্তমান দুই নির্বাচন কমিশনার সুকবীর সিংহ সান্ধু ও বিবেক যোশী আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁদের আপত্তির মধ্যে ভোটার তালিকায় নতুন নাম তোলা, নাম বাদ দেওয়া এবং ভোটার ডেটাবেস পরিচালনার পদ্ধতির মতো বিষয়ও রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতেই কুরেশি বলেন, নির্বাচন কমিশন তিন সদস্যের একটি সংস্থা এবং তিন সদস্যেরই সমান অধিকার রয়েছে। তাঁর মতে, কোনও বিষয়ে সর্বসম্মতি না হলে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতই সিদ্ধান্তের ভিত্তি হওয়া উচিত।
বিষয়টি শুধু SIR-এর পদ্ধতি নিয়ে নয়, নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রাক্তন CEC। কুরেশির বক্তব্য, সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য সত্য হলে বিষয়টি গুরুতর এবং এর পূর্ণ নথি প্রকাশ্যে আনা প্রয়োজন।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিষয় রয়েছে। ২০২৩ সালের Chief Election Commissioner and Other Election Commissioners (Appointment, Conditions of Service and Term of Office) Act-এর ১৮ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, কমিশনের কাজ যতটা সম্ভব সর্বসম্মতভাবে পরিচালিত হবে। তবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্য নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে কোনও বিষয়ে মতপার্থক্য হলে সেই বিষয়টি সংখ্যাগরিষ্ঠের মত অনুযায়ী নিষ্পত্তি করার কথা বলা হয়েছে।
কুরেশি সেই ধারার প্রসঙ্গ টেনেই প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, দুই কমিশনার যদি কোনও সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে থাকেন, তাহলে তাঁদের আপত্তি কীভাবে নিষ্পত্তি করা হয়েছিল, তা স্পষ্ট হওয়া দরকার। তিনি গত দেড় বছরে কমিশনের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের পক্ষেও সওয়াল করেছেন।
প্রাক্তন CEC আরও দাবি করেছেন, কমিশনের বৈঠক কোনও কোনও সময়ে দীর্ঘ সময় হয়নি। সেই দাবি নিয়েও বিস্তারিত নথি প্রকাশের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর মতে, কোন সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত ছিল এবং কোথায় মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল—তা স্পষ্ট হলে গোটা বিষয়টি নিয়ে জনসমক্ষে থাকা প্রশ্নগুলির উত্তর পাওয়া সম্ভব।
তবে নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগের সঙ্গে একমত নয়। Election Commission of India (ECI)-এর বক্তব্য, একটি বহু-সদস্যের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন সদস্যের মতামত ও পর্যবেক্ষণের পার্থক্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাভাবিক অংশ। কমিশনের দাবি, গত এক বছরে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলি পূর্ণ কমিশনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হিসেবেই নেওয়া হয়েছে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে দুই নির্বাচন কমিশনারের তরফে গত ১০ মাসে অন্তত ১৪টি আপত্তি নথিভুক্ত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, তাঁদের আপত্তির মধ্যে নতুন ভোটারদের জন্য Form 6-এ পরিবর্তন এবং ভোটার তালিকার ডেটাবেসের নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয় ছিল।
অর্থাৎ, এখন মূল প্রশ্নটি শুধু SIR-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা সংশোধনের পদ্ধতি নিয়ে নয়। কমিশনের ভিতরে মতপার্থক্য হয়ে থাকলে সেই আপত্তি কীভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ২০২৩ সালের আইনের ১৮ নম্বর ধারা কীভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে—সেটিও সামনে আসছে।



