দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এবার সত্যি হতে চলেছে পরিচালক শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (Shiboprosad Mukherjee)-এর। প্রযোজনা সংস্থার ২৫ বছর পূর্তিতে বড় ঘোষণা করলেন তিনি ও পরিচালক নন্দিতা রায় (Nandita Roy)। তাঁদের আগামী ছবিতে অভিনয় করতে চলেছেন বাংলা তথা ভারতীয় সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় তারকা মিঠুন চক্রবর্তী (Mithun Chakraborty)। সোশ্যাল মিডিয়ায় মিঠুনের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে নিজের বহু বছরের স্বপ্নপূরণের কথা জানিয়েছেন শিবপ্রসাদ।
মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা যে তাঁর দীর্ঘদিনের, তা গোপন করেননি শিবপ্রসাদ। ছোটবেলা থেকেই মিঠুনের সিনেমা দেখে বড় হয়েছেন তিনি। সেই প্রিয় অভিনেতার সঙ্গেই এবার ক্যামেরার সামনে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে প্রযোজনা সংস্থার ২৫ বছর পূর্তির উদযাপনও তাঁর কাছে হয়ে উঠছে ব্যক্তিগত ভাবে বিশেষ।
মিঠুনের সঙ্গে ছবি শেয়ার করে শিবপ্রসাদ লেখেন, প্রত্যেক মানুষেরই কিছু স্বপ্ন থাকে। ছোটবেলা থেকেই সেই স্বপ্ন নিঃশব্দে মনের মধ্যে থেকে যায়। তাঁর নিজেরও তেমনই একটি স্বপ্ন ছিল—একদিন মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে কাজ করবেন।
শিবপ্রসাদের সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতায় মিঠুনের একাধিক ছবির প্রভাব রয়েছে। ‘অগ্নিপথ’, ‘ডিস্কো ডান্সার’, ‘দো আনজানে’, ‘ডান্স ডান্স’-এর মতো ছবির পাশাপাশি বাংলা সিনেমায় মিঠুনের অভিনয়ও তাঁকে গভীর ভাবে প্রভাবিত করেছে। তাই অভিনেতা মিঠুন তাঁর কাছে শুধুমাত্র একজন তারকা নন, বরং ছোটবেলার সিনেমার জগতের এক বিস্ময়।
মিঠুনকে নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে শিবপ্রসাদ জানিয়েছেন, একজন অভিনেতার কোনও নির্দিষ্ট ভাষা বা সীমানা থাকে না। তাঁর অভিনয়, ব্যক্তিত্ব এবং পর্দায় উপস্থিতি সব মিলিয়ে মিঠুন তাঁর কাছে এক অনন্য অভিজ্ঞতা। ‘মৃগয়া’ থেকে ‘ডিস্কো ডান্সার’—মিঠুনের অভিনয় জীবনের একাধিক অধ্যায় তাঁর স্মৃতিতে এখনও উজ্জ্বল।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অবশ্য পরিচালক ও অভিনেতার মধ্যে পেশাগত পরিচয় তৈরি হয়েছে। ফলে একসঙ্গে কাজ করার ইচ্ছাটাও আরও জোরালো হয়। শেষ পর্যন্ত সেই অপেক্ষার অবসান ঘটেছে একটি নতুন গল্পের হাত ধরে।
শিবপ্রসাদের কথায়, মিঠুনের কাছে যখন নতুন ছবির গল্প নিয়ে গিয়েছিলেন, তখনই ঘটে বিশেষ মুহূর্তটি। গল্প শোনানো শেষ হওয়ার পর মিঠুন হাত মিলিয়ে তাঁকে বলেন, ‘ফাটিয়ে দিয়েছিস, এ তো আমার জীবনের গল্প।’ অভিনেতার এই প্রতিক্রিয়াই যে পরিচালকের কাছে কতটা বড় প্রাপ্তি, তা তাঁর বক্তব্যেই স্পষ্ট।
শুধু সামনাসামনি দেখা নয়, তারও আগে মিঠুন যখন আমেরিকায় ছিলেন, তখন ফোনে নিজের পরিচয় দিয়ে তাঁকে একটি ভয়েস নোট পাঠিয়েছিলেন শিবপ্রসাদ। সেই বার্তা শুনে মিঠুন নিজেই ফোন ব্যাক করেছিলেন বলে জানিয়েছেন পরিচালক। মিঠুনের সেই স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়াও তাঁর মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।
এখন অপেক্ষা ছবির শুটিং এবং পর্দায় সেই বহু প্রতীক্ষিত জুটিকে দেখার। ছবির গল্প, চরিত্র এবং অন্যান্য কলাকুশলী নিয়ে এখনও বিস্তারিত ঘোষণা হয়নি। তবে শিবপ্রসাদ-নন্দিতার সঙ্গে মিঠুন চক্রবর্তীর এই প্রথম কাজের খবর প্রকাশ্যে আসতেই বাংলা সিনেমাপ্রেমীদের কৌতূহল তুঙ্গে।
২৫ বছরের পথচলা পূর্তির সময়ে এমন একটি স্বপ্নপূরণের ঘোষণা শিবপ্রসাদের কাছে নিঃসন্দেহে আবেগের। তাঁর কথায়, আর কয়েক দিনের অপেক্ষা। তারপরই বহু বছরের সেই স্বপ্ন বাস্তব রূপ পাবে। সবচেয়ে বড় কথা, মিঠুন ভালো আছেন—এই কথাতেই আপাতত নিজের আনন্দ প্রকাশ করেছেন পরিচালক।



