সত্তরের দশকের বাংলা ছবির পরিচিত মুখ অভিনেত্রী মিঠু মুখোপাধ্যায় প্রয়াত। মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে রবিবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘদিন অন্তরালে থাকা এই অভিনেত্রীর শেষ জীবনে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই চলছিল।
বাংলা সিনেমার এক বিশেষ সময়ের সঙ্গে মিঠু মুখোপাধ্যায়ের নাম জড়িয়ে রয়েছে। সৌন্দর্য, অভিনয় এবং পর্দায় স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতির কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি দর্শকের নজরে আসেন। সত্তরের দশকে একাধিক জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করে তৈরি করেছিলেন নিজস্ব পরিচিতি।
১৯৭৩ সালের ‘মর্জিনা আবদুল্লা’ তাঁর অভিনয়জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ছবি। এরপর ‘মৌচাক’, ‘স্বয়ংসিদ্ধা’, ‘হোটেল স্নো ফক্স’, ‘চাঁদের কাছাকাছি’-সহ একাধিক ছবিতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। রঞ্জিত মল্লিকের সঙ্গে তাঁর জুটি বিশেষ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।
বাংলার পাশাপাশি হিন্দি ছবিতেও কাজ করেছিলেন মিঠু। ১৯৭৬ সালে ‘খান দোস্ত’ দিয়ে হিন্দি ছবিতে তাঁর যাত্রা শুরু হয়। পরে বাসু চট্টোপাধ্যায়ের পরিচালনায় ‘দিল্লাগি’, ‘সফেদ ঝুট’ এবং ‘দো লাড়কে দোনো কাড়কে’-র মতো ছবিতে অভিনয় করেন।
তবে জনপ্রিয়তার শিখরে থাকতেই ধীরে ধীরে অভিনয় থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন তিনি। শেষ দিকে তাঁকে আর নিয়মিতভাবে পর্দায় দেখা যায়নি। ১৯৮০-এর দশকের পর অভিনয়জগৎ থেকে কার্যত সরে গিয়ে মুম্বইয়ে থাকতেন এবং সংবাদমাধ্যমের আড়ালেই জীবন কাটাতে পছন্দ করতেন বলে তাঁর সম্পর্কে প্রকাশিত পুরনো প্রতিবেদনগুলিতে উল্লেখ রয়েছে।
এই কারণেই মিঠু মুখোপাধ্যায়ের ব্যক্তিজীবন দীর্ঘদিন সাধারণ দর্শকের কাছে অনেকটাই অজানা থেকে যায়। বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর সক্রিয় সময়ও ছিল তুলনামূলক ভাবে সংক্ষিপ্ত। কিন্তু সেই সময়ের কয়েকটি জনপ্রিয় চরিত্র ও ছবির সুবাদে তাঁর নাম এখনও সত্তরের দশকের বাংলা সিনেমার আলোচনায় ফিরে আসে।
মিঠুর অভিনয়ের মধ্যে একদিকে ছিল গ্ল্যামারের উপস্থিতি, অন্যদিকে চরিত্র অনুযায়ী নিজেকে বদলে নেওয়ার ক্ষমতা। ‘মৌচাক’-এর প্রাণবন্ত চরিত্র থেকে ‘স্বয়ংসিদ্ধা’-র ভিন্ন মেজাজ—ছবির ধরন অনুযায়ী তাঁর পর্দার উপস্থিতিতেও পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল।
তাঁর সৌন্দর্যের কারণে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে মিঠু মুখোপাধ্যায়কে ‘কলকাতার রেখা’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই অভিধাটি তাঁর আনুষ্ঠানিক পরিচয় নয়, বরং জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক বর্ণনা হিসেবেই ব্যবহৃত হয়েছে।
অভিনয় থেকে বহু বছর দূরে থাকার পরও তাঁর প্রয়াণ বাংলা সিনেমার সেই প্রজন্মের এক পরিচিত মুখের অধ্যায় শেষ করল। পর্দায় তাঁর কাজের সংখ্যা খুব বেশি না হলেও, ‘মর্জিনা আবদুল্লা’, ‘মৌচাক’ ও ‘স্বয়ংসিদ্ধা’-র মতো ছবি তাঁকে বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আলাদা জায়গা দিয়েছে।



