কারখানা থেকে তোলাবাজি বা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ নিয়ে ফের কড়া বার্তা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। ট্রেড ইউনিয়নের নাম করে কোনও কারখানা থেকে টাকা তোলা হলে পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, বিজেপির কোনও ট্রেড ইউনিয়ন নেই এবং দলের তরফে কারখানা থেকে চাঁদা তোলার কোনও ব্যবস্থা নেই।
শনিবার হুগলির ডানকুনিতে একটি কারখানার প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন শমীক। সেখানেই তিনি দাবি করেন, এলাকায় কিছু মানুষ বিক্ষিপ্তভাবে এই ধরনের কাজ করছেন। তাঁদের সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি।
শমীকের বক্তব্য, যদি ওই ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ বিজেপির সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাহলে দলের তরফে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর কেউ যদি বিজেপির নাম বা পরিচয় ব্যবহার করে এই ধরনের কাজ করেন, সেক্ষেত্রে প্রশাসনকে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
ডানকুনির শিল্পাঞ্চল প্রসঙ্গে শমীক আরও বলেন, রাজনৈতিক পতাকা বা ট্রেড ইউনিয়নের দাবির কাছে কারখানা কর্তৃপক্ষকে মাথা নোয়াতে হবে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিজেপির কোনও ট্রেড ইউনিয়ন নেই। ফলে দলের নাম করে কারখানায় গিয়ে টাকা দাবি করার প্রশ্নও ওঠে না।
শমীক বলেন, “আমাদের ট্রেড ইউনিয়ন নেই।” তাঁর বক্তব্য, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর ‘সিন্ডিকেট’ শব্দটি উঠে গিয়েছে। তারপরেও কেউ যদি দলের পতাকা বা ট্রেড ইউনিয়নের নাম ব্যবহার করে কারখানায় গিয়ে টাকা দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এই প্রসঙ্গে পুলিশের ভূমিকার উপরেও জোর দেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। ডানকুনিতে পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকদের উপস্থিতিতে তিনি বলেন, কোনও ব্যক্তি রাজনৈতিক পতাকা ব্যবহার করে বা ট্রেড ইউনিয়নের পরিচয় দিয়ে বেআইনি ভাবে টাকা দাবি করলে বিষয়টি উপেক্ষা করা উচিত নয়। এমন অভিযোগের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাই বলেন তিনি।
তবে একইসঙ্গে দলের সঙ্গে কারও সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, সেটিও স্পষ্ট করার কথা বলেন শমীক। তাঁর দাবি, কেউ যদি বিজেপির সদস্য বা কর্মী হয়ে এই ধরনের কাজে জড়িত থাকেন, তাহলে দল তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। আর কেউ বিজেপির নাম ভাঙিয়ে কাজ করলে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে হবে।
তোলাবাজির অভিযোগ নিয়ে শমীকের এই অবস্থান অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও তিনি প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন, বিজেপির নাম করে কেউ কারখানা বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে টাকা দাবি করলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মে মাসেও তিনি বলেছিলেন, বিজেপির কোনও ট্রেড ইউনিয়ন নেই এবং দলের পতাকা ব্যবহার করে টাকা দাবি করার জায়গা নেই।
জুলাই মাসে ডানকুনিতেই শিল্প সংক্রান্ত একটি অনুষ্ঠানে শমীক জানিয়েছিলেন, বিজেপির পতাকা নিয়ে বা ট্রেড ইউনিয়নের নামে কেউ কারখানা বন্ধ করতে পারবে না। একইসঙ্গে কোনও মালিককে ভয় দেখিয়ে বিজেপির নামে টাকা তোলারও বিরোধিতা করেছিলেন তিনি।
অগস্টেও তোলাবাজি নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের সতর্ক করেছিলেন শমীক। সেই সময় তিনি স্বীকার করেছিলেন যে দলের নাম ব্যবহার করে কিছু জায়গায় তোলাবাজির অভিযোগ পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি এবং এ ধরনের বিচ্যুতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
ফলে ডানকুনির মঞ্চ থেকে শমীকের সাম্প্রতিক বার্তাকেও সেই ধারাবাহিক অবস্থানের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্যের মূল বার্তা, বিজেপির নাম বা পতাকা ব্যবহার করে কোনও কারখানা থেকে চাঁদা বা তোলা আদায় করা দলের নীতি নয়। এমন অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে দল ও প্রশাসন—দুই স্তরেই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।



