দলের অন্দরেই এবার বিস্ফোরক অভিযোগ বিজেপি বিধায়ক রেখা পাত্রের (Rekha Patra)। বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার নেতাদের একাংশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা ও অপমানের অভিযোগ তুলেছেন হিঙ্গলগঞ্জের বিধায়ক। তাঁর দাবি, পড়াশোনা কম জানেন বলে তাঁকে ভুল পথে চালানোর চেষ্টা করা হয়, এমনকি দলের অনুষ্ঠানে ডেকেও অপমান করা হয়েছে। গোটা বিষয়টি নিয়ে এবার বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।
সন্দেশখালিতে (Sandeshkhali) তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের (Sheikh Shahjahan) বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন রেখা পাত্র। সেই আন্দোলনের পর বিজেপি তাঁকে বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী করে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে হিঙ্গলগঞ্জের বিধায়ক হন তিনি।
তবে বিধায়ক হওয়ার পরেও দলের সাংগঠনিক স্তরে তাঁকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ রেখার। বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার নেতাদের একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তাঁর দাবি, জেলা নেতৃত্বের সব কর্মসূচিতে তিনি আর যোগ দেন না। নিজের বিধানসভার কাজকেই এখন অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
রেখার কথায়, জেলা স্তর থেকে তাঁকে ‘ভুল পথে চালানোর চেষ্টা’ করা হচ্ছে। তাই সব অনুষ্ঠানে যাওয়া বন্ধ করেছেন। এতদিন দলের স্বার্থেই তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি বলেও দাবি তাঁর। এবার অবশ্য বিষয়টি বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পৌঁছনোর অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।
আরও বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন হিঙ্গলগঞ্জের বিধায়ক। তাঁর দাবি, তিনি পড়াশোনা জানেন না—এই বিষয়টিকে হাতিয়ার করে বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার কমিটির একাংশ তাঁকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। এমনকি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়ে সেখানেও তাঁকে অপমান করা হয় বলে অভিযোগ রেখার।
নিজের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি। রেখার দাবি, অনেকেই বড় নেতা হওয়ার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের উপস্থিতি দেখাতে ব্যস্ত। কিন্তু তিনি রাজনীতিতে এসেছেন মানুষের সমস্যা সমাধানের জন্য। প্রচারের আলোয় থাকার বদলে ২৪ ঘণ্টা নিজের বিধানসভা এলাকার মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেন বলেই জানিয়েছেন তিনি।
দলের অন্দরে ক্ষোভ থাকলেও বিজেপি সরকার সম্পর্কে অবশ্য ইতিবাচক রেখা পাত্র। দলীয় সাংগঠনিক স্তরের নেতাদের আচরণ এবং সরকারের কাজকে এক করে দেখতে নারাজ তিনি। তাঁর বক্তব্য, সাংগঠনিক স্তরে কিছু নেতার কী ভূমিকা, তার উপর কোনও রাজনৈতিক দলের গোটা মূল্যায়ন নির্ভর করে না। ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
রেখার অভিযোগ অবশ্য মানতে নারাজ বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা নেতৃত্ব। জেলা নেতৃত্বের একাংশের দাবি, বিধায়ক এবং জেলা কমিটির কর্মী হিসেবে রেখা পাত্র যে সম্মান পাওয়ার যোগ্য, তাঁকে তা দেওয়ারই সবসময় চেষ্টা করা হয়েছে। ফলে অভিযোগ ও পাল্টা দাবিতে বিজেপির অন্দরেই নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
সন্দেশখালির আন্দোলনের অন্যতম মুখ থেকে বিধায়ক—রেখা পাত্রের রাজনৈতিক উত্থান দ্রুতই হয়েছে। এবার তাঁরই দলের জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভের ঘটনায় সেই বিজেপির অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শেষ পর্যন্ত শীর্ষ নেতৃত্ব কী পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।



