‘তৃণমূল কারও বাপের সম্পত্তি নয়’, কমিশন বৈঠক শেষে প্রতীক নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ঋত শিবির

তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে দুই শিবিরের লড়াই চূড়ান্ত পর্যায়ে। নির্বাচন কমিশনের বৈঠক শেষে প্রতীক পাওয়ার বিষয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় প্রতীক নিয়ে দুই শিবিরের টানাপোড়েন এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। শনিবার নির্বাচন কমিশনের (Election Commission of India) দফতরে প্রায় এক ঘণ্টা ২০ মিনিটের বৈঠক শেষে প্রতীক পাওয়ার বিষয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Bandyopadhyay)। তাঁর দাবি, কমিশনের যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছে তাঁদের শিবির। বৈঠক শেষে ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) নিশানা করে তাঁর কটাক্ষ, ‘তৃণমূল কংগ্রেস কারও বাপের দল নয়’।

তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীকের দাবিদার কোন শিবির, তা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলছে। বিষয়টি এখন নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। শনিবার শুনানির জন্য দুই পক্ষকেই ডেকেছিল কমিশন। প্রথমে ঋতব্রত শিবিরের প্রতিনিধিদের বক্তব্য শোনা হয়।

‘আসল’ তৃণমূলের দাবিদার হিসেবে কমিশনের দফতরে যান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ রায় (Arup Roy), চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya), আখরুজ্জামান এবং তাঁদের আইনজীবী আমন ঝাঁ। দীর্ঘ বৈঠকের পর বাইরে এসে ঋতব্রত জানান, কমিশনের তরফে যে সমস্ত প্রশ্ন করা হয়েছিল, তার জবাব তাঁরা দিয়েছেন। প্রয়োজনীয় নথিপত্রও জমা করা হয়েছে বলে দাবি তাঁর।

বৈঠক শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানান বিরোধী দলনেতা। তাঁর বক্তব্য, এতদিন তৃণমূল কংগ্রেসে কোনও গণতান্ত্রিক পদ্ধতি মানা হয়নি। তাঁর কটাক্ষ, ‘না খাতা, না বহি—জো ডক্টর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কহে, ওহি সহি’—এই নীতি আর চলতে পারে না।

ঋতব্রত বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস কোনও একজনের সিদ্ধান্তে চলবে না। ইচ্ছেমতো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থারও অবসান হওয়া দরকার। তাঁর দাবি, দল কোনও একটি পরিবারের সম্পত্তি নয়; এটি তৃণমূল স্তরের কর্মীদের দল।

তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এই বক্তব্যের সময় ঋতব্রতর পাশে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোগী হিসেবে পরিচিত অরূপ রায় ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন আখরুজ্জামানও। ফলে কমিশনের দফতরের বাইরে এই রাজনৈতিক সমীকরণও যথেষ্ট নজর কেড়েছে।

নিজেদের দাবির পক্ষে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন ঋতব্রত। তাঁর বক্তব্য, শুধু মৌখিক দাবি নয়, নথি ও তথ্যের ভিত্তিতেই তাঁরা নিজেদের অবস্থান কমিশনের সামনে তুলে ধরেছেন। বৈঠক নিয়ে সন্তুষ্ট বলেও জানান তিনি।

এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের সময়। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। তার আগেই দলীয় প্রতীক নিয়ে জটিলতা মিটিয়ে ফেলতে চাইছে দুই শিবিরই।

ঋতব্রতর বক্তব্য, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কমিশনের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। তবে কমিশন ঠিক কবে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে মনোনয়ন পর্বের আগে এই সিদ্ধান্তই এখন বাংলার রাজনীতিতে অন্যতম বড় কৌতূহলের বিষয়।

দুই শিবিরের রাজনৈতিক লড়াই ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের দরজায় পৌঁছেছে। এখন কমিশনের সিদ্ধান্তেই স্পষ্ট হবে, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে কোন পক্ষ তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করে মাঠে নামতে পারবে। সেই সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন