নয়া দিল্লির ভারত মণ্ডপমে শুরু হল ব্রিকস সামিট। সম্মেলনের শুরুতেই চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন-সহ উপস্থিত রাষ্ট্রনেতাদের স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ব্রিকসের মঞ্চ থেকেই শান্তি, সহযোগিতা এবং মানবতার বার্তা দিয়ে মোদী বলেন, “ভারত মানবতার পক্ষে। সবাইকে একসঙ্গে চলার পক্ষে ভারত।” একইসঙ্গে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদ-সহ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে সংস্কারের জোরালো দাবি তুলেছেন তিনি।
ব্রিকস সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, বদলে যাওয়া বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকেও নতুন করে সাজানোর প্রয়োজন রয়েছে। তাঁর মতে, বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতার প্রতিফলন যাতে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির কাঠামোয় দেখা যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে গ্লোবাল সাউথের প্রতিনিধিত্ব আরও শক্তিশালী করার পক্ষে সওয়াল করেন তিনি।
আগামী ২০ বছরের কথা মাথায় রেখে ব্রিকসকে আরও উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান মোদী। তাঁর বক্তব্য, সংগঠনের আগামী দিনের পথচলার জন্য এমন একটি নতুন অ্যাজেন্ডা প্রয়োজন, যা শুধু বর্তমান চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করবে না, ভবিষ্যতের পরিবর্তনগুলির কথাও মাথায় রাখবে।
ব্রিকসের সভাপতিত্ব প্রতি বছর বদলে যাওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে। তাঁর মতে, সভাপতিত্ব পরিবর্তনের সঙ্গে সংগঠনের প্রাতিষ্ঠানিক কাজের ধারাবাহিকতা যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়, তার জন্য একটি স্থায়ী ব্যবস্থা প্রয়োজন।
এই লক্ষ্যেই ‘কন্টিনিউটি অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন মেকানিজম’ বা ধারাবাহিকতা ও বাস্তবায়ন ব্যবস্থা তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন মোদী। এর মাধ্যমে ব্রিকসের বিভিন্ন উদ্যোগ ও গৃহীত সিদ্ধান্তের পরবর্তী পদক্ষেপগুলির উপর ধারাবাহিক নজর রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, এই ব্যবস্থায় ব্রিকসের প্রতিটি সদস্য দেশের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রত্যেক দেশের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংগঠনের প্রতিটি উদ্যোগের কেন্দ্রে রাখতে হবে মানবজাতির উন্নয়নকে। অর্থাৎ শুধু অর্থনীতি বা কূটনীতি নয়, মানুষের কল্যাণকেও ব্রিকসের ভবিষ্যৎ কর্মসূচির অন্যতম মূল ভিত্তি করার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
বিশ্ব প্রশাসনিক কাঠামোয় সংস্কারের জন্য ব্রিকসের সদস্য দেশগুলিকে সম্মিলিতভাবে একটি রূপরেখা তৈরির প্রস্তাবও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, বিশ্ব ব্যবস্থার সংস্কারের লক্ষ্যে ১০টি প্রস্তাব তৈরি করে সেগুলিকে আগামী ব্রিকস সম্মেলনের মধ্যে ‘ব্রিকস রিফর্ম রোডম্যাপ’-এর রূপ দেওয়া যেতে পারে।
রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে সংস্কারের প্রশ্নে মোদীর বক্তব্য ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর মতে, বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কাঠামোয় পরিবর্তন প্রয়োজন। সেই সঙ্গে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির প্রতিনিধিত্ব আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার উপর জোর দেন তিনি।
ব্রিকসের মঞ্চ থেকে মোদীর এই বক্তব্যে একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে, অন্যদিকে তেমনই সংগঠনটির আগামী দিনের ভূমিকা নিয়েও স্পষ্ট বার্তা মিলেছে। আগামী দুই দশকের জন্য আরও কার্যকর, ধারাবাহিক এবং মানবকেন্দ্রিক ব্রিকস গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এদিন একাধিক প্রস্তাব সামনে রাখলেন প্রধানমন্ত্রী।



