‘বিশ্বকর্মা পুজোয় নবান্নে আসুন, একসঙ্গে অঞ্জলি দিন’, বামেদের চ্যালেঞ্জ শুভেন্দুর

পুজো নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মাঝেই বামেদের উদ্দেশে সরাসরি চ্যালেঞ্জ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। বিশ্বকর্মা পুজোয় নবান্নে এসে একসঙ্গে পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার আমন্ত্রণ জানালেন তিনি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

গণেশ পুজোর সূচনাকে কেন্দ্র করে ফের রাজনৈতিক আক্রমণাত্মক বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সোমবার বেহালা ও বালিগঞ্জে পুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বামেদের নিশানা করে তিনি বলেন, ধর্মকে ‘আফিং’ বলা বা নিজেদের নাস্তিক বলে দাবি করা ব্যক্তিদের কাছ থেকে ধর্ম নিয়ে উপদেশ নেওয়ার প্রয়োজন নেই। একইসঙ্গে কমিউনিস্ট নেতাদের বিশ্বকর্মা পুজোর দিন নবান্নে এসে তাঁর সঙ্গে পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার আমন্ত্রণও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

বালিগঞ্জে ভারত সেবাশ্রম সংঘের পুজোর সূচনা করতে গিয়ে পুজো নিয়ে চলা বিতর্ক প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, কমিউনিস্ট ঘরানার অনেকেই পুজোর প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা করছেন। তাঁর কথায়, কেউ প্রশ্ন তুলছেন কেন পুজোর কথা বলতে হবে। সেই সমালোচনার জবাবেই বাম নেতাদের উদ্দেশে নবান্নে আসার আহ্বান জানান তিনি।

শুভেন্দুর বক্তব্য, বিশ্বকর্মা পুজোর দিন নবান্নে তিনি নিজে পুষ্পাঞ্জলি দেবেন। বাম নেতারাও সেখানে এলে সকলে মিলে বিশ্বকর্মার সামনে অঞ্জলি দেওয়া যেতে পারে। তাঁর দাবি, এর মাধ্যমে বামেরাও ‘পরিবর্তনের স্বাদ’ পাবেন। পুজোকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের আবহে মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

এরপর বেহালায় গণেশ পুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গিয়ে ধর্মাচরণ নিয়ে বিরোধীদের বক্তব্যেরও জবাব দেন শুভেন্দু। বাগেশ্বর বাবা বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সনাতন ধর্মের পুজো-পার্বণের নিয়ম সম্পর্কে সনাতনীরাই জানেন। কোনও দিন নিরামিষ ভোগ দেওয়া হয়, আবার কোনও দিন মাছ দিয়ে ভোগ দেওয়ার রীতি রয়েছে—কোন পুজোয় কী নিয়ম, তা সেই সম্প্রদায়ের মানুষই ঠিক করেন বলে তাঁর বক্তব্য।

পূর্ববর্তী সরকারের আমলে পুজোর পদ্ধতি, পাঠ এবং পঞ্জিকার নিয়ম বদলে পুজোকে শুধুমাত্র ‘কালচারাল প্রোগ্রাম’ হিসেবে দেখানোর অভিযোগও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, প্রাদেশিকতার নামে মানুষের মধ্যে বিভাজনের একটি প্রাচীর তৈরি হয়েছিল। সেই প্রাচীর ভাঙার কাজ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পিতৃপক্ষে দুর্গাপুজোর সূচনা নিয়েও এদিন কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, পিতৃপক্ষ এলেই ‘কাঁচি নিয়ে বের হওয়ার’ কোনও প্রয়োজন নেই। একইসঙ্গে দেশবিরোধী শক্তির থেকে দূরে থাকার বার্তাও দেন তিনি। অসুরের প্রতীকী উল্লেখ করে দেশবিরোধী শক্তি এবং ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী।

গণেশ পুজোর বিস্তার নিয়েও বিরোধীদের একাংশের সমালোচনার জবাব দেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, গণপতি পুজো শুধুমাত্র মহারাষ্ট্রের সংস্কৃতির অংশ—এমন ধারণা ঠিক নয়। তাঁর মতে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সনাতনীদের মধ্যে ঐক্যই এই উৎসবগুলির অন্যতম বার্তা।

মারাঠি, গুজরাতি বা বিহারি পরিচয়ের ভিত্তিতে যে বিভাজনের প্রাচীর তৈরি করা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন, সেটি ভেঙে দেওয়ার কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এই সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের ফলেই বাংলায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ নিজেদের উৎসব আরও বেশি করে উদযাপন করছেন।

পুজোকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই শুভেন্দুর বামেদের উদ্দেশে বিশ্বকর্মা পুজোয় নবান্নে এসে অঞ্জলি দেওয়ার আমন্ত্রণ তাই নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন বাম নেতৃত্ব এই চ্যালেঞ্জের কী জবাব দেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন