প্রাক্তন ক্রীড়াবিদদের মাসে ১০ হাজার টাকা দেবে রাজ্য, কারা পাবেন এই সম্মান? জানুন শর্ত

মুখ্যমন্ত্রী কৃতি ক্রীড়াবিদ সম্মান যোজনায় যোগ্য প্রাক্তন ক্রীড়াবিদদের প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। আবেদন করতে হলে বয়স, ক্রীড়া সাফল্য ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ জরুরি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

প্রবীণ ও কৃতী প্রাক্তন ক্রীড়াবিদদের জন্য বড় ঘোষণা করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী কৃতি ক্রীড়াবিদ সম্মান যোজনার মাধ্যমে যোগ্য ক্রীড়াবিদদের প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে সম্মান দেওয়ার সিদ্ধান্ত এবার আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করা হল। মঙ্গলবার রাজ্য সরকারের এই বিজ্ঞপ্তি সামনে আসতেই ক্রীড়ামহলে শুরু হয়েছে আলোচনা। তবে এই আর্থিক সুবিধা পেতে হলে একাধিক নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করতে হবে।

নতুন সরকারের বাজেটেই প্রবীণ ক্রীড়াবিদদের পাশে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই ঘোষণার পর এবার মাসিক সম্মান দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশ করা হল। মূলত ক্রীড়াক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করা এবং বর্তমানে নির্দিষ্ট বয়সসীমা পূরণ করা প্রাক্তন ক্রীড়াবিদদের এই সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে।

আবেদনকারীর বয়স আবেদন করার সময় অন্তত ৪০ বছর হতে হবে। একইসঙ্গে তাঁকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। অর্থাৎ বয়স ও রাজ্যের নাগরিকত্ব—দুই ক্ষেত্রেই নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করা বাধ্যতামূলক।

শুধু বয়সের শর্ত পূরণ করলেই অবশ্য এই মাসিক সম্মান পাওয়া যাবে না। জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় পশ্চিমবঙ্গের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করে পদক জেতার রেকর্ড থাকতে হবে। ন্যাশনাল গেমস অথবা সমগোত্রীয় কোনও জাতীয় প্রতিযোগিতায় রাজ্যের হয়ে পদকজয়ী ক্রীড়াবিদরা এই যোগ্যতার আওতায় আসতে পারেন।

আন্তর্জাতিক স্তরের ক্রীড়াবিদদের ক্ষেত্রেও রয়েছে নির্দিষ্ট মাপকাঠি। অলিম্পিক, ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ, কমনওয়েলথ গেমস, এশিয়ান গেমস অথবা প্যারা স্পোর্টসের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্যতা থাকতে হবে।

তবে সরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে কর্মরত থাকলে এই সম্মান পাওয়া যাবে না। কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের পাশাপাশি ব্যাঙ্ক এবং PSU-তে সক্রিয় কর্মী থাকা আবেদনকারীদের এই প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হবে না। অর্থাৎ বর্তমানে নিয়মিত সরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত চাকরিতে থাকা ক্রীড়াবিদরা মাসিক ১০ হাজার টাকার এই সম্মানের জন্য যোগ্য নন।

আবেদন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম রাখা হয়েছে। আবেদনকারী যে জেলায় বসবাস করেন, সেই জেলার জেলাশাসকের কাছে আবেদন করতে হবে। কলকাতার বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে আবেদন জমা দিতে হবে সংশ্লিষ্ট যুগ্ম সচিবের কাছে।

যোগ্য ক্রীড়াবিদদের প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে সম্মান দেওয়ার পাশাপাশি প্রতি বছর লাইফ সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার নিয়মও রাখা হয়েছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রত্যেক আবেদনকারীকে প্রতি বছরের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে জীবন প্রমাণপত্র বা লাইফ সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে।

এই পুরো প্রক্রিয়া যাচাই করার জন্য একটি স্ক্রিনিং কমিটিও তৈরি করেছে রাজ্য সরকার। কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে থাকবেন অতিরিক্ত মুখ্যসচিব, প্রিন্সিপাল সচিব অথবা সচিব পদমর্যাদার একজন আধিকারিক। আবেদনকারীদের যোগ্যতা যাচাই করে তারপরই মাসিক সম্মান প্রদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

স্ক্রিনিং কমিটিতে SAI-এর আঞ্চলিক ডিরেক্টর, ক্রীড়া দপ্তরের একজন সচিব বা যুগ্ম সচিব, চারজন ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব এবং রাজ্যের ক্রীড়াক্ষেত্রের স্টেট কাউন্সিলের সচিবকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। ফলে আবেদনকারীর ক্রীড়া সাফল্য ও যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি ক্রীড়াক্ষেত্রের প্রতিনিধিদেরও যুক্ত করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, দীর্ঘদিন রাজ্যের হয়ে বা দেশের হয়ে ক্রীড়াক্ষেত্রে সাফল্য এনে দেওয়া প্রবীণ ক্রীড়াবিদদের জন্য এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সহায়তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে মাসিক ১০ হাজার টাকা পেতে বয়স, পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকত্ব, ক্রীড়া সাফল্য এবং বর্তমান কর্মসংস্থানের মতো প্রতিটি শর্ত পূরণ করতে হবে। এখন নজর, যোগ্য প্রাক্তন ক্রীড়াবিদদের আবেদন প্রক্রিয়া কত দ্রুত শুরু হয় এবং কতজন এই সম্মানের আওতায় আসেন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন