১৭ সেপ্টেম্বর অন্নপূর্ণার ৩০০০ টাকা, উপভোক্তা বেড়ে ১ কোটি ৫৮ লক্ষ! কারা পাবেন?

১৭ সেপ্টেম্বর অন্নপূর্ণা যোজনার সেপ্টেম্বরের ৩,০০০ টাকা দেওয়ার ঘোষণা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এবার প্রায় ১ কোটি ৫৮ লক্ষ যোগ্য মহিলা এই কিস্তির আওতায় থাকছেন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গের অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ১৭ সেপ্টেম্বর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিনে, যোগ্য মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সেপ্টেম্বরের ৩,০০০ টাকার কিস্তি পাঠানো হবে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এবার প্রকল্পের আওতায় থাকছেন প্রায় ১ কোটি ৫৮ লক্ষ মহিলা, যা আগের মাসের তুলনায় বেশি।

২০২৬ সালের জুনে অন্নপূর্ণা যোজনা চালুর সময় প্রথম দফায় প্রায় ২৮.২৬ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে ৩,০০০ টাকা পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তী মাসগুলিতে যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় উপভোক্তার সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। আগস্টে প্রায় ১.৪৫ কোটি মহিলাকে টাকা দেওয়া হয়েছিল বলে এর আগে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন।

এবার সেপ্টেম্বরের কিস্তির জন্য সেই সংখ্যা আরও বাড়ছে। ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে যোগ্য উপভোক্তাদের আধার-লিঙ্কড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে Direct Benefit Transfer বা DBT-এর মাধ্যমে টাকা পাঠানোর কথা। সরকারি প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, অন্নপূর্ণা যোজনায় মাসে ৩,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় ১৭ সেপ্টেম্বর দিনটিকে ‘অন্নপূর্ণা দিবস’ হিসেবেও পালন করার কথা সামনে এসেছে। ফলে সেপ্টেম্বরের টাকা কবে আসবে, তা নিয়ে যে অপেক্ষা ছিল, তার অবসান ঘটল। তবে টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে মূল বিষয় হল উপভোক্তার নাম চূড়ান্ত যোগ্য তালিকায় থাকা এবং নথিপত্র ও ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত তথ্য ঠিক থাকা।

কারা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন?

সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি যোগ্য মহিলাদের জন্য এই প্রকল্প চালু হয়েছে। মাসে ৩,০০০ টাকা সরাসরি আধার-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারি চাকরি বা নির্দিষ্ট সরকারি/সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত চাকরি এবং আয়কর প্রদানকারীরা মূল সরকারি নিয়মে যোগ্য নন।

পরবর্তী সময়ে যোগ্যতার কিছু অতিরিক্ত মাপকাঠিও স্পষ্ট করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষিত নিয়ম অনুযায়ী, কোনও মহিলার নিজের মাসিক আয় ১০ হাজার টাকার বেশি হলে তিনি অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাবেন না। পরিবারের বার্ষিক আয় ১২ লক্ষ টাকার বেশি হলেও যোগ্যতা থাকবে না।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। অন্য কোনও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেলেই যে প্রত্যেক মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনা থেকে বাদ পড়বেন—এমন সরল নিয়ম নয়। প্রতিবন্ধী ভাতা এবং PM-KISAN-এর মতো নির্দিষ্ট সুবিধা পাওয়া মহিলাদের ক্ষেত্রে ছাড়ের কথা মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন। ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি বিধবাদের ক্ষেত্রেও আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বাড়ি ও জমির ক্ষেত্রেও নিয়মে পরিবর্তন হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার মহিলাদের ক্ষেত্রে তিন বা তার বেশি ঘর থাকার শর্ত শিথিল করা হয়েছে। জমির ক্ষেত্রেও গ্রাম ও নির্দিষ্ট পুরসভা এলাকার জন্য আলাদা মাপকাঠির কথা জানানো হয়েছে। তাই শুধুমাত্র বাড়িতে তিনটি ঘর বা নির্দিষ্ট পরিমাণ জমি রয়েছে বলেই প্রত্যেক আবেদনকারীকে একইভাবে অযোগ্য ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

অন্নপূর্ণা যোজনায় টাকা না পাওয়ার আরেকটি বড় কারণ হতে পারে তথ্যের গরমিল। আধার, পরিচয়পত্র, জন্মতারিখ বা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি থাকলে DBT আটকে যেতে পারে। আগের পর্যায়ে বহু আবেদনকারীর তথ্য যাচাইয়ের পরেই চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে প্রথম দফার টাকা দেওয়ার পর নতুন আবেদন এবং পুরনো আবেদনের যাচাই—দুই প্রক্রিয়াই চলেছে। জুনে ২৮ লক্ষের বেশি মহিলাকে টাকা দেওয়ার পর আরও ১ কোটির বেশি আবেদন যাচাই করে আপলোড করা হয়েছিল বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন।

ফলে সেপ্টেম্বরের কিস্তিতে উপভোক্তার সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১ কোটি ৫৮ লক্ষে পৌঁছনোর কথা জানিয়েছেন শুভেন্দু। তবে এই সংখ্যাটি মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে; চূড়ান্ত অর্থপ্রাপ্তি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট উপভোক্তার যোগ্যতা ও প্রশাসনিক যাচাইয়ের উপর।

সব মিলিয়ে, ১৭ সেপ্টেম্বর অন্নপূর্ণা যোজনার ৩,০০০ টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল—নাম যোগ্য তালিকায় আছে কি না এবং আধার-লিঙ্কড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য সঠিক কি না। যোগ্যতা থাকলেও তথ্যগত ত্রুটি থাকলে টাকা জমা পড়তে দেরি হতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন