তৃণমূল কংগ্রেসের (All India Trinamool Congress) দলীয় নাম ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীক নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের বিরোধ এখনও মেটেনি। ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হওয়ার পর এবার ১৭ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার ফের শুনানিতে বসতে চলেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)।
এই মুহূর্তে কমিশনের তরফে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে—এমন কোনও তথ্য নেই। বরং বৃহস্পতিবার দুই পক্ষের বক্তব্য ও নথি পর্যালোচনার পর কমিশন কী নির্দেশ দেয়, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন। কমিশন ১৭ সেপ্টেম্বর প্রয়োজন হলে শুনানির কথা আগেই জানিয়েছিল।
বুধবার উপনির্বাচনের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পার হয়ে গেলেও প্রতীক নিয়ে কোনও চূড়ান্ত নির্দেশ আসেনি। ফলে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে কোন শিবির ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে, তা এখনও অনিশ্চিত।
বৃহস্পতিবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কমিশনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই প্রতিনিধি দলে ঋতব্রত ছাড়াও অরূপ রায়-সহ কয়েকজন নেতা এবং আইনজীবী থাকবেন। অন্য দিকে কালীঘাটের মমতা-শিবিরও কমিশনের সামনে নিজেদের বক্তব্য ও নথি পেশ করবে।
এর আগে ১২ সেপ্টেম্বর কমিশন দুই পক্ষের বক্তব্য আলাদা ভাবে শুনেছিল। সেই শুনানির পর ঋতব্রত-শিবিরের কাছে নিজেদের দাবির সমর্থনে আরও কিছু নথি চাওয়া হয়। পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরকেও অতিরিক্ত তথ্য বা নথি জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, বৃহস্পতিবার কমিশন কি কোনও একটি পক্ষকে দলীয় নাম ও প্রতীক ব্যবহারের অধিকার দেবে, নাকি আপাতত ‘জোড়াফুল’ প্রতীক নিয়ে কোনও অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নেবে?
একটি সম্ভাবনা হল, কমিশন কোনও এক শিবিরকে তৃণমূলের নাম ও সংরক্ষিত প্রতীক ব্যবহারের অধিকার দিতে পারে। সেক্ষেত্রে অন্য পক্ষকে বিকল্প প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে যেতে হতে পারে। তবে এমন কোনও সিদ্ধান্তের কথা এখনও কমিশন ঘোষণা করেনি। দুই পক্ষই নিজেদের দাবির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছে।
আরও একটি সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী মহলে আলোচনা রয়েছে—চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ‘জোড়াফুল’ প্রতীক সাময়িক ভাবে ফ্রিজ করে রাখা। অর্থাৎ কোনও পক্ষকেই অবিলম্বে প্রতীক না দিয়ে পরবর্তী শুনানি ও নথিপত্রের ভিত্তিতে পরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তবে এটিও এখনও কমিশনের ঘোষিত সিদ্ধান্ত নয়, সম্ভাব্য পরিস্থিতি হিসেবেই আলোচনা হচ্ছে।
উপনির্বাচনের সময়সূচির কারণে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে ৬ অক্টোবর ভোট হওয়ার কথা এবং ৯ অক্টোবর গণনা। মনোনয়ন জমার শেষ দিন ছিল ১৬ সেপ্টেম্বর, আর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৯ সেপ্টেম্বর। ফলে প্রতীক নিয়ে কমিশনের নির্দেশ দুই শিবিরের নির্বাচনী প্রস্তুতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
মমতা-শিবির ইতিমধ্যেই দুই কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করেছে এবং জানিয়েছে, তারা ঐতিহ্যবাহী ‘জোড়াফুল’ প্রতীকেই লড়াই করতে চায়। অন্য দিকে ঋতব্রত-শিবিরও নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের জন্য প্রার্থী ঘোষণা করেছে এবং একই প্রতীকের দাবি জানিয়েছে।
অতএব, ১৭ সেপ্টেম্বরের শুনানির পরেই তৃণমূলের নাম ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীক নিয়ে অন্তর্বর্তী বা চূড়ান্ত নির্দেশ আসবে কি না, সেটিই এখন নজরে। তবে বৃহস্পতিবারই যে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে, তা কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।



