পশ্চিমবঙ্গের দুই বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করল বিজেপি। নন্দীগ্রামে প্রার্থী করা হয়েছে প্রয়াত চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথকে। অন্যদিকে, রেজিনগরে দলের প্রার্থী মুর্শিদাবাদের প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি তথা রাজ্য কমিটির সদস্য শাখারভ সরকার।
চন্দ্রনাথ রথ ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রাক্তন আপ্তসহায়ক। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের মাত্র দু’দিন পর, ৬ মে মধ্যমগ্রামে গুলিতে খুন হন তিনি। সেই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে যে আলোচনা তৈরি হয়েছিল, তার পরেই নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে চন্দ্রনাথের মাকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
চন্দ্রনাথের পৈতৃক বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরে। তাঁর মৃত্যুর পর পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। চন্দ্রনাথের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানেও উপস্থিত হয়ে বিচারের আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রীর উপর আস্থা রাখার কথা জানিয়েছিলেন হাসিরানি।
এ বার সেই হাসিরানিই নন্দীগ্রামের ভোটের ময়দানে বিজেপির প্রার্থী। দলীয় প্রার্থী ঘোষণার আগে মঙ্গলবার সকালে নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়ার সিদ্ধেশ্বর শিবমন্দির ও জানকীনাথ মন্দিরে পুজো দেন তিনি। সেখানেই প্রার্থী হওয়ার কথা জানান হাসিরানি।
হাসিরানি জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা তিনি পেয়েছেন এবং দলের সংগঠনের সহযোগিতা নিয়ে নির্বাচনে লড়াই করতে চান। তাঁর বক্তব্য, নন্দীগ্রামের উন্নয়নের জন্য ইতিমধ্যেই অনেক কাজ হয়েছে। বাকি কাজের জন্য তিনি শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করবেন।
মঙ্গলবারই হলদিয়া মহকুমা দফতরে মনোনয়ন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে বিজেপি প্রার্থীর। মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উপস্থিত থাকতে পারেন বলেও জানা গিয়েছে।
নন্দীগ্রাম আসনটি খালি হওয়ার কারণও সরাসরি যুক্ত গত বিধানসভা নির্বাচনের ফলের সঙ্গে। শুভেন্দু নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুর থেকেও প্রার্থী হয়েছিলেন এবং দুই কেন্দ্রেই জয় পান। পরে নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়।
অন্যদিকে, রেজিনগরেও একই কারণে উপনির্বাচন হচ্ছে। আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (AJUP)-র নেতা হুমায়ুন কবীর রেজিনগর ও নওদা—দুই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন। পরে রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেন তিনি। এই উপনির্বাচনে নিজের ছেলে গোলাম নবি আজাদ ওরফে রবিনকে প্রার্থী করেছেন হুমায়ুন।
দুই কেন্দ্রে ইতিমধ্যেই একাধিক দলের প্রার্থী ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। নন্দীগ্রামে কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে, কংগ্রেসের মিলন প্রধান, সিপিআইয়ের শান্তিগোপাল গিরি এবং ঋতব্রত শিবিরের মহম্মদ এহেতাশ মুল হক লড়ছেন।
রেজিনগরে কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী, কংগ্রেসের আব্দুল্লাহিল কাফি, সিপিএমের সইদ আসাদ আলি এবং ঋতব্রত শিবিরের শেখ সফিউদ্দিন জামান রয়েছেন। আসন সমঝোতা নিয়ে মতানৈক্যের জেরে রেজিনগরে আলাদা প্রার্থী দিয়েছে বামফ্রন্টের শরিক আরএসপি—প্রার্থী বিকাশচন্দ্র মিশ্র।
ফলে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই কেন্দ্রেই একাধিক রাজনৈতিক শক্তির লড়াই হতে চলেছে। তবে নন্দীগ্রামে বিজেপির হাসিরানি রথকে ঘিরে নির্বাচনী লড়াইয়ের আলাদা মাত্রা তৈরি হয়েছে। প্রয়াত চন্দ্রনাথ রথের পরিবারের সঙ্গে শুভেন্দুর সম্পর্ক এবং তাঁর মাকে সরাসরি প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত ভোটের প্রচারে বিজেপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হয়ে উঠতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে ভোটগ্রহণ হবে। ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। দুই কেন্দ্রের ফল ঘোষণা হবে ৯ অক্টোবর। পাশাপাশি, দুই তৃণমূল শিবিরের মধ্যে জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত হয়, সেটিও এই উপনির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।



